বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা: জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার রাতে হাসাদাহ মডেল ফাজিল মাদরাসার সামনে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান গুরুতর আহত হন। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত হাফিজুর রহমান সুটিয়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে এবং জীবননগর শহরের ‘ঢাকা জুয়েলার্স’-এর মালিক ছিলেন। সংঘর্ষে তার ছোট ভাই ও হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানও গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত অন্যদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনের সঙ্গে জামায়াত কর্মী মাহদি হাসানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল। শনিবার ইফতারের পর সুটিয়া থেকে হাসাদাহ বাজারে আসার পথে মাহদি ও তার বাবার ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট ধরে চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জীবননগর থানা পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং নতুন করে সহিংসতা এড়াতে হাসাদাহ বাজারসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।