বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, বরিশাল: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
২০৭ কোটি ২৯ লাখ টাকার বিশাল অংকের আয়কর ফাঁকির অভিযোগে আয়কর বিভাগের আপত্তির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে স্থানীয় নির্বাচনী এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের সামগ্রিক চিত্র স্পষ্ট হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৩২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের ১০টি মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে এবং ৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বরিশাল-২ আসনের আলোচিত প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর বিরুদ্ধে বিশাল অংকের কর ফাঁকির সুনির্দিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকা কর অঞ্চল-৭-এর নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৯-২০০০ করবর্ষ থেকে ২০০৭-২০০৮ করবর্ষ পর্যন্ত সান্টুর কাছে মূল কর দাবি ছিল ৩৮ কোটি ৯১ লাখ ৬১ হাজার ৩৫২ টাকা। এর সাথে জরিমানা যুক্ত হয়েছে ১৬৮ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ২৩৫ টাকা। সব মিলিয়ে তার কাছে সরকারের মোট পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৭ কোটি ২৯ লাখ ৭৪ হাজার ৫৮৭ টাকা।
এই বিশাল বকেয়া পরিশোধ না করায় আয়কর বিভাগ আপত্তি জানায়, যার ফলে তার মনোনয়নপত্রটি বর্তমানে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।
হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সান্টুর বিরুদ্ধে বর্তমানে ৬টি মামলা বিচারাধীন আছে যার মধ্যে ৫টিই দুর্নীতি দমন আইনের আওতাভুক্ত এবং বর্তমানে তদন্তাধীন। বাকি ১টি আয়কর ফাঁকির মামলা উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে।
যদিও বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই, তবে অতীতে তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ৩টি আয়কর সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাকিগুলো ছিল রাজনৈতিক মামলা।
অন্যদিকে বরিশাল-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের বিরুদ্ধেও আয়কর ফাঁকির অভিযোগ থাকলেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় তার নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই বলে জানানো হয়েছে।
গুঠিয়া মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর মনোনয়ন স্থগিতের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নথিপত্র অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তারা চাইলে নির্ধারিত সময়ে আপিল করতে পারবেন।










