চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল মানেই যে শুধু চা গাছের সারি তা নয়। এটি হচ্ছে স্বর্গীয় সৌন্দর্যের অপরূপ বাহার। প্রায় সকল পর্যটকই এর নিগূঢ় সৌন্দর্যে মাতাল হন। ছোট টিলার ন্যায় পাহাড়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকা শান্ত চা বাগান, হাওড়ের বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজ বনানী এখানে সৃষ্টি করেছে অপরূপ সৌন্দর্যের এক স্বর্গীয় দৃশ্য। তাই সিলেটের অন্যান্য যায়গার চেয়ে তুলনামূলক ভাবে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বেশী এই শ্রীমঙ্গলেই। শ্রীমঙ্গলের চা বাগান, বাইক্কা বিল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক তাই সবসময় থাকে পর্যটকদের পদচারনায় মুখর। চায়ের দেশের বিখ্যাত খাবারের মধ্যে চা থাকবে এটা স্বাভাবিক ব্যাপারই, তবে এখানের বিখ্যাত একটি চা রএছে যেটা কিন্তু আর দশ যায়গার মত সাধারন কোন চা নয়। চা এর নামটাও বেশ চমৎকার সাতরঙা চা, চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল বেড়াতে এসে সেখানের নীলকণ্ঠ চা কেবিনের সাতরঙা চা এ চুমুক দেননি এমন লোক খুজে পাওয়া কষ্ট। শুধু কি দেশ? এর সাথে বিদেশিদের কাছেও বিখ্যাত এই সাতরঙা চা, যা এখন হয়ে উঠেছে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণের অন্যতম এক অনুষঙ্গ।
বর্তমানে তিনি সফল হলেও তার কর্মজীবনের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার আটানিবাজারে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর অংশীদার ছিলেন রমেশ । কিন্তু তাঁর অংশীদার পুরো টাকা আত্মসাৎ করে। দূর্ভাগ্য মেনে নিয়ে ভাগ্য বদলের উদ্দেশ্যে তিনি ২০০০ সালের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে শ্রীমঙ্গলে চলে আসেন। সঙ্গে ছিল মাত্র দেড় হাজার টাকা। রামনগর মণিপুরীপাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে শহরের নতুন বাজারে একটি দোকানে চাকরি নেন। ওই বছরের আগস্টে চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন কাকিয়াছড়া চা বাগানে একটি চায়ের দোকান দেন। এরপর নিবিড়ভাবে চিন্তা ও পরিশ্রম করে ২০০২ সালে একই গ্লাসে দুই রঙা চা আবিষ্কার করে শ্রীমঙ্গলে তোলপাড় সৃষ্টি করেন। ধীরে ধীরে চায়ের স্তর বাড়াতে শুরু করেন। বর্তমানে এটি আট স্তরে এসে দাঁড়িয়েছে।