Home চট্টগ্রাম সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট: মৌলভিত্তির শক্তিতে অটল এক বাতিঘর

সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট: মৌলভিত্তির শক্তিতে অটল এক বাতিঘর

মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে মুনাফা বৃদ্ধি প্রায় চারগুণ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম : দেশের অর্থনীতির প্রধান ধমনী হলো আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, আর এই বাণিজ্যের অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড (SAPORTL)। ৩০ মার্চ ২০২৬-এর বাজার চিত্র এবং বিগত কয়েক বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নানা বৈশ্বিক ও দেশীয় সংকটের মাঝেও প্রতিষ্ঠানটি কেবল টিকে থাকেনি, বরং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হয়েছে।
১. দাপুটে বাজার দর ও স্থিতিশীলতা
৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে শেয়ারটির দর ১.৬৪% বেড়ে ৪৯.৫০ টাকায় পৌঁছেছে। গত এক বছরের ৫২ সপ্তাহের রেঞ্জ (২০.২০ – ৫০.২০ টাকা) লক্ষ্য করলে দেখা যায়, শেয়ারটি বর্তমানে তার সর্বোচ্চ চূড়ার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বাজারের অনেক বড় বড় শেয়ার যখন তলানিতে, তখন সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের এই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান তাদের ব্যবসায়িক সাফল্যেরই প্রতিফলন। মাসের পর মাস ধরে ডিএসই তে এটার অবস্থান টপটুয়েন্টিতে।
২. মুনাফায় অভূতপূর্ব উল্লম্ফন (EPS Growth)
সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের আর্থিক সক্ষমতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো তাদের ক্রমবর্ধমান শেয়ার প্রতি আয় (EPS)।
  • ২০২১: ০.৭৯ টাকা
  • ২০২৩: ১.২২ টাকা
  • ২০২৪: ১.৭৫ টাকা
  • ২০২৫ (অডিটেড): ২.৮৫ টাকা!
 মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে মুনাফাকে প্রায় চারগুণ বাড়িয়ে নেওয়া কোনো সাধারণ অর্জন নয়। এমনকি ২০২৫-এর প্রথম ৬ মাসেও তারা ০.৯৬ টাকা ইপিএস ধরে রেখেছে, যা একটি শক্তিশালী বছরের ইঙ্গিত দেয়।

৩. লভ্যাংশের আকর্ষণীয় ধারাবাহিকতা (High Dividend Yield)
বিনিয়োগকারীরা যখন ভালো শেয়ার খোঁজেন, তখন তারা লভ্যাংশের দিকেই তাকান। এক্ষেত্রে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট অত্যন্ত উদার।
২০২৫ সালে ১৮% নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেছে তারা, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ডিভিডেন্ড ইল্ড: বর্তমানে তাদের ডিভিডেন্ড ইল্ড ৮.৩৭%, যা যেকোনো ব্যাংক এফডিআর বা সঞ্চয়পত্রের তুলনায় অনেক বেশি আকর্ষণীয়।

৪. শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ভিত্তি (Net Asset & Reserve)
নেট সম্পদ মূল্য (NAV): শেয়ার প্রতি নিট সম্পদের পরিমাণ ৩৫.৬৭ টাকা
সংরক্ষিত তহবিল: কোম্পানির রিজার্ভ ও সারপ্লাসের পরিমাণ ৫,৮৭১.২ মিলিয়ন টাকা। বিশাল এই রিজার্ভ কোম্পানিটিকে যেকোনো বড় সংকটে সুরক্ষা দেয় এবং নতুন বিনিয়োগে সাহস জোগায়।
উদ্যোক্তা মালিকানা: শেয়ার ধারণের চিত্রে দেখা যায়, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৬২.৬৮% শেয়ার। প্রতিষ্ঠানের ওপর মালিকপক্ষের এই দৃঢ় আস্থা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় এক গ্যারান্টি।

চট্টগ্রামের অফ-ডক ব্যবসায় সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের আধিপত্য এখন প্রশ্নাতীত। বিশেষ করে ২০২৫-এর প্রবৃদ্ধির গ্রাফ বলছে, সামনে তাদের রিভ্যালুয়েশন রিজার্ভ (৫২৩ কোটি টাকা) কোম্পানিটিকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।