Home আইন-আদালত সেন্টমার্টিনের হোটেল-রিসোর্টে অস্বাস্থ্যকর খাবার ও দূষিত পানি

সেন্টমার্টিনের হোটেল-রিসোর্টে অস্বাস্থ্যকর খাবার ও দূষিত পানি

 ৯টি হোটেল ও রিসোর্টকে জরিমানা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, কক্সবাজার: দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থান রক্ষায় কঠোর অবস্থানে নেমেছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে পরিবেশবিরোধী কার্যক্রমের দায়ে ৯টি হোটেল ও রিসোর্টকে মোট ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানের প্রেক্ষাপট ও নেতৃত্ব সেন্টমার্টিন দ্বীপের মূল সৈকত এলাকায় প্লাস্টিক পোড়ানো, জেনারেটরের বিকট শব্দ এবং অতিরিক্ত আলোকসজ্জার কারণে সামুদ্রিক প্রাণীদের প্রজনন ও জীবনচক্র ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফির নেতৃত্বে পরিবেশ অধিদপ্তর ও পুলিশের সমন্বয়ে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ অভিযানে বিধি ভেঙে পরিবেশ দূষণ ও অব্যবস্থাপনার দায়ে শাস্তির আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

  • নীল দিগন্ত রিসোর্ট
  • লুই পাস হোটেল
  • সেন্ট ক্যাসল হোটেল
  • সূর্যস্নান হোটেল
  • হোটেল ফ্যান্টাসি
  • কোরাল হেডজ বীচ রিসোর্ট
  • হোটেল অবকাশ
  • আপ্যায়ন রেস্তোরাঁ
  • দি আটলান্টিক হোটেল

পরিদর্শনে পাওয়া ভয়াবহ চিত্র অভিযান চলাকালীন ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি জানান, সরেজমিনে হোটেলগুলোতে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে:

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলা: যত্রতত্র কঠিন বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ।

প্লাস্টিক দূষণ: স্তূপীকৃত প্লাস্টিক বর্জ্য প্রকাশ্যে পোড়ানো।

শব্দ দূষণ: উচ্চ শব্দে জেনারেটরের যথেচ্ছ ব্যবহার।

স্বাস্থ্যঝুঁকি: রেস্টুরেন্টে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি এবং হোটেলে ব্যবহারের জন্য দূষিত পানি সরবরাহ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও উল্লেখ করেন, সেন্টমার্টিন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বাস্তুসংস্থান। যেসব প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনবিহীন বা যাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক নয়, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এই বিশেষ অভিযান আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে এবং দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়মিত তদারকি চালানো হবে।

প্রবাল দ্বীপটিকে একটি টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।