Home শেয়ারবাজার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস: পুঁজিবাজারে আস্থার প্রতীক

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস: পুঁজিবাজারে আস্থার প্রতীক

শেয়ারবাজার স্ক্যানার: স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা:
১. লাভ-লোকসানের ধারাবাহিকতা (Profitability)
স্কয়ার ফার্মা দেশের ওষুধ শিল্পের বাজারের প্রায় ১৮-১৯% একাই নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের আয়ের প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত স্থিতিশীল।
অর্থবছর নিট মুনাফা (কোটি টাকা) শেয়ার প্রতি আয় (EPS) লভ্যাংশ (Dividend)
২০২০-২১ ১,৫৯৫.৩ ১৭.৯৯ ৬০% ক্যাশ
২০২১-২২ ১,৮১৮.৪ ২০.৫১ ১০০% ক্যাশ
২০২২-২৩ ১,৮৯৮.৫ ২১.৪১ ১০৫% ক্যাশ
২০২৩-২৪ ২,০৯২.৪ ২৩.৬১ ১১০% ক্যাশ
২০২৪-২৫ ২,২৩০.৮ ২৫.১৬ ১১৫% ক্যাশ
বিশ্লেষণ: ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের খরচ বাড়লেও স্কয়ার ফার্মা তাদের মুনাফা ধরে রাখতে পেরেছে। এটি তাদের শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন এবং ব্র্যান্ড ভ্যালুর প্রমাণ।

২. বাজার মূল্য ও শেয়ার তথ্য (Market Performance)
বর্তমান দর: ২০২৬ সালের মার্চ অনুযায়ী, শেয়ার দর ২১৫.০০ – ২৩০.০০ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে (Consolidation) রয়েছে।
মার্কেট ক্যাপ: এটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম বাজার মূলধনী কোম্পানি (প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকার উপরে)।
ক্যাটাগরি: কোম্পানিটি শুরু থেকেই অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ‘A’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে।

৩. আর্থিক শক্তি ও ঋণ (Financial Health & Debt)
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো তাদের নগণ্য ব্যাংক ঋণ।
ঋণমুক্ত প্রতিষ্ঠান: অধিকাংশ বড় কোম্পানি যেখানে ঋণের ভারে জর্জরিত, সেখানে স্কয়ার ফার্মা প্রায় ‘Debt-Free’ বা ঋণমুক্ত অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করে। তাদের নিজস্ব রিজার্ভ বা জমাকৃত মুনাফার পরিমাণ বিশাল (প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকার উপরে)।
বিনিয়োগ: তারা নিজস্ব তহবিল থেকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোতে (যেমন: স্কয়ার টেক্সটাইল, স্কয়ার হাসপাতাল) নিয়মিত বিনিয়োগ করে থাকে, যা থেকে বড় অঙ্কের লভ্যাংশ আয় হয়।

৪. অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ঝুঁকি (Economic Outlook)
ইতিবাচক দিক:
রপ্তানি বাজার: বিশ্বের প্রায় ৪৬টি দেশে তাদের ওষুধ রপ্তানি হয়। কেনিয়ার কারখানায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।
অখণ্ড নেতৃত্ব: নতুন নতুন মলিকিউল এবং হাই-টেক ড্রাগ উৎপাদনে তাদের সক্ষমতা অন্য যেকোনো কোম্পানির চেয়ে বেশি।
নগদ অর্থ: বিশাল ক্যাশ রিজার্ভ থাকায় যেকোনো অর্থনৈতিক সংকটে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ।
ঝুঁকি:
এলডিসি গ্রাজুয়েশন: ২০২৬ সালের পর পেটেন্ট সংক্রান্ত কিছু বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে, যা ওষুধের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে স্কয়ার ইতিমধ্যে জেনেরিক ওষুধের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।