Home অন্যান্য প্রকৃতির এক বিস্ময়কর স্থাপত্য: চীনের রহস্যময় পাথরের বন

প্রকৃতির এক বিস্ময়কর স্থাপত্য: চীনের রহস্যময় পাথরের বন

ছবি সংগৃহীত
 আবু মুসা বিশ্বাস, কুনমিং: প্রকৃতি কখনো কখনো এমন সব স্থাপত্যশৈলী উপহার দেয় যা মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘শাইলিন’ বা স্টোন ফরেস্ট তেমনই এক অবিশ্বাস্য সৃষ্টি। প্রায় ২৭০ মিলিয়ন বছরের প্রাচীন এই পাথুরে বনটি কেবল ভূ-তাত্ত্বিক নিদর্শন নয়, বরং এটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের এক অনন্য রত্ন। দূর থেকে দেখলে মনে হবে ধূসর রঙের শত শত পাথুরে বৃক্ষ আকাশপানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, যার প্রতিটি চূড়া যেন আদিম কোনো রহস্য ধারণ করে আছে।
সংগৃহীত ছবি
পাথুরে গোলকধাঁধার হাতছানি
লখনৌয়ের ইমামবারার বিখ্যাত ‘ভুলভুলাইয়া’ মানুষের তৈরি এক গোলকধাঁধা হিসেবে পরিচিত হলেও, শাইলিনের এই পাথরের বন প্রকৃতির নিজস্ব কারুকার্য। বিশাল সব চুনাপাথরের চূড়াগুলো ৩০ থেকে ৪০ মিটার পর্যন্ত উঁচু, যা পর্যটকদের এক গোলকধাঁধার মতো রহস্যময় অভিজ্ঞতার ভেতর নিয়ে যায়। এলাকাটি মূলত তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত—গ্রেটার স্টোন ফরেস্ট, লেজার স্টোন ফরেস্ট এবং নাইগু স্টোন ফরেস্ট। এই পাথুরে অরণ্যের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে স্ফটিক স্বচ্ছ হ্রদ, প্রবহমান ঝরনা এবং গহীন গুহা, যা পুরো এলাকাটিকে স্বপ্নের মতো সুন্দর করে তুলেছে।
ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় ঐতিহ্য
কুনমিং শহর থেকে বাস বা প্রাইভেট কারে করে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিলেই দেখা মেলে এই অদ্ভুত সুন্দর গন্তব্যের। পাহাড়ি লাল মাটির রাস্তার দুই পাশে সবুজের সমারোহ আর বুনো ফুলের বাগান পর্যটকদের এক ভিন্ন জগতে নিয়ে যায়। প্রবেশের মূল ফটকটি প্রাকৃতিক ফুলে সজ্জিত, যা এক স্নিগ্ধ অভ্যর্থনা জানায়। এই বনের অন্যতম আকর্ষণ হলো স্থানীয় আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। পর্যটকরা সামান্য ভাড়ার বিনিময়ে এসব বর্ণিল পোশাক পরে ছবি তোলার সুযোগ পান, যা ভ্রমণের স্মৃতিকে আরও রঙিন করে তোলে।
এক অনন্য গন্তব্য
শাইলিন স্টোন ফরেস্ট ভ্রমণে গিয়ে বন্ধু বা আপনজনদের সাথে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। পাথরের এই অরণ্য কেবল দেখার জন্য নয়, বরং প্রকৃতির বিশালতা অনুভবের এক জায়গা। আপনি যদি পাহাড়, রহস্য আর ইতিহাসের মেলবন্ধন ভালোবাসেন, তবে কুনমিংয়ের এই পাথরের বন আপনার ভ্রমণ তালিকায় অবশ্যই থাকা উচিত।