আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আজ সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫,০০০ ডলার ছাড়িয়েছে। আজ সোমবার দিনের শুরুতেই স্পট গোল্ডের দাম ২.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,১১০.৫০ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়।
বাজারের বর্তমান চিত্র (২৬ জানুয়ারি ২০২৬)
| ধাতুর নাম | বর্তমান মূল্য (প্রতি আউন্স) | সর্বোচ্চ উচ্চতা (আজকের) |
| স্বর্ণ (Spot Gold) | $৫,০৮১.১৮ | $৫,০৯২.৭১ |
| স্বর্ণ (Futures Market) | $৫,০৭৯.৩০ | $৫,০৮৫.০০+ |
| রুপা (Silver) | $১০৮.৯১ | $১০৯.৪৪ |
| প্লাটিনাম (Platinum) | $২,৮৭১.৪০ | $২,৮৯১.৬০ |
২০২৫ পরবর্তী অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি: ২০২৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম মোট ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। শুধুমাত্র ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক সপ্তাহেই এই দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশের বেশি। নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের অটল আস্থা এবং বিনিময় বাণিজ্যের (ETF) রেকর্ড বিনিয়োগ এই উত্থানকে ত্বরান্বিত করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘বোর্ড অব পিস’ ও শুল্ক বিতর্ক:
বিনিয়োগকারীদের অস্থিরতার অন্যতম প্রধান কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু অনিয়মিত সিদ্ধান্ত। গ্রিনল্যান্ড দখল ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি এবং ফরাসি মদ ও শ্যাম্পেইনে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি বিশ্ব অর্থনীতিতে কম্পন সৃষ্টি করেছে। এছাড়া কানাডা-চীন বাণিজ্য চুক্তির বিপরীতে কানাডায় ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ডলারের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
ফেডারেল রিজার্ভ ও পাওয়েল তদন্ত:
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা মার্কিন বন্ড ও ডলারের পরিবর্তে স্বর্ণের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ স্বর্ণ ৫,৪০০ থেকে ৫,৫০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা ও ইয়েনের প্রভাব:
ডলারের সাম্প্রতিক দরপতনের ফলে জাপানি মুদ্রা ইয়েন এক শতাংশের বেশি শক্তিশালী হয়েছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ট্রেডারদের সাথে যোগাযোগ শুরু করায় ইয়েনের এই উত্থান ডলারকে দুর্বল করেছে, যা পরোক্ষভাবে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।










