মাহবুব হাসান, চট্টগ্রাম: কুয়াশাভেজা জানুয়ারির সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্পিল রাস্তাগুলো আজ আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে হাজারো প্রাণের স্পন্দনে। গত ২ জানুয়ারি বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞ আজ ১০ জানুয়ারি ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষার দিনে এসে এক অভূতপূর্ব উৎসবে রূপ নিয়েছে।
একদিকে পেন্সিল-কলমের ডগায় হাজারো তরুণের ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াই, অন্যদিকে অভিভাবকদের চোখেমুখে এক রঙিন অতীতের রোমন্থন।
স্মৃতির বারান্দায়:
আজকের এই পরীক্ষার দিনে সন্তানদের কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে অনেক অভিভাবকই যেন ফিরে গেছেন বিশ-ত্রিশ বছর আগের সেই সোনালী দিনগুলোতে। এ. এফ. রহমান হলের সামনে দাঁড়িয়ে এক অভিভাবককে দেখা গেল অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন ২১৬ নম্বর কক্ষের দিকে।
স্মৃতির ঝাঁপি খুলে তিনি বলছিলেন, “এই তো সেই কক্ষ, যার বারান্দা থেকে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যেত সেই চিরচেনা চাঁপাফুলের গাছটা। গাছটা আজও আছে, শুধু সময়টা বদলে গেছে।”
অনেকে আবার হলের ডাইনিং, টিভি রুম কিংবা সেই অতিপরিচিত সিড়িতে পা রেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন। কেউ মনে করছেন সেই সিড়িতে পিছলে পড়ে ব্যথা পাওয়ার কথা, কেউবা খুঁজছেন সেই পুরনো কর্মচারী বা প্রিয় শিক্ষকদের, যারা আজ হয়তো বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন কিংবা পদোন্নতি পেয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারক।
খেলার মাঠের কোণায় সেই পুরনো মেডিকেল সেন্টার আর ডা. শফিউল্লাহ বা অরুণ বাবুর স্মৃতি আজও অনেককে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তারুণ্যের সেই দিনগুলোতে।
উৎসবমুখর এই পরিবেশের আড়ালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে কঠোর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। প্রক্টর প্রফেসর ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানান, শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়োজিত রয়েছেন ২২০ জন নিরাপত্তা সদস্য। জরুরি সহায়তার জন্য রয়েছে ২টি মেডিকেল ক্যাম্প ও ৬টি ইনফরমেশন সেন্টার।
উল্লেখ্য, এবারের ভর্তি পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর থাকলেও ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাচ্ছে ০.২৫ নম্বর। ডি-১ উপ-ইউনিট (পাস নম্বর ৩৫) ছাড়া বাকি সব ইউনিটে ন্যূনতম পাস নম্বর ৪০ নির্ধারণ করা হয়েছে।
শাটল ট্রেনের হুইসেল আর পাহাড়ঘেরা এই ক্যাম্পাসে আজ কেবল নতুনদের আগমনী গান নয়, বরং পুরনোদের ফেলে আসা স্মৃতির দীর্ঘশ্বাস আর আনন্দাশ্রুর এক অপূর্ব কাব্য রচিত হচ্ছে।










