২০২৬ সালের হজ নিয়ে হাজিদের জন্য সত্যিই একটি বড় সুসংবাদ রয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর (দেড় দশক) পর হজের মৌসুম তপ্ত গ্রীষ্মকাল থেকে সরে এসে বসন্তকাল বা নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার দিকে যাচ্ছে। নিচে এই পরিবর্তনের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:
১. আবহাওয়ার বড় পরিবর্তন
গত কয়েক বছর ধরে হজের সময় সৌদি আরবে তাপমাত্রা ৪৫°C থেকে ৫০°C পর্যন্ত পৌঁছে যেত, যা হাজিদের জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের হজ অনুষ্ঠিত হবে জুন মাসের পরিবর্তে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। সৌদি আরবের আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০২৬ সাল থেকে হজের সময় তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।
২. দীর্ঘ ১৭ বছরের চক্র
ইসলামি হিজরি ক্যালেন্ডার চান্দ্র মাস অনুযায়ী চলে, যা প্রতি বছর ইংরেজি ক্যালেন্ডার থেকে প্রায় ১০-১১ দিন এগিয়ে আসে। এই নিয়মে হজের মৌসুম প্রতি ৩৩ বছরে পুরো একটি ঋতুচক্র সম্পন্ন করে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হজ মূলত তীব্র গরমের মৌসুমে ছিল। ২০২৬ সাল থেকে এই চক্রটি পরিবর্তিত হয়ে বসন্তকালীন আবহাওয়ায় প্রবেশ করছে, যা পরবর্তী কয়েক বছর অব্যাহত থাকবে।
৩. হাজিদের জন্য যেসব সুবিধা হবে
আবহাওয়া আরামদায়ক হওয়ায় হজযাত্রীরা বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা পাবেন:
শারীরিক ক্লান্তি হ্রাস: আরাফাতের ময়দান এবং মিনায় অবস্থানের সময় হিটস্ট্রোক বা পানিশূন্যতার ঝুঁকি অনেক কমে আসবে।
শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ: মুজদালিফা থেকে মিনায় গিয়ে পাথর নিক্ষেপের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া সহজ হবে।
তাওয়াফ ও সাঈ: কাবা শরীফ তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়ে দৌড়ানোর সময় অসহনীয় গরমের মুখোমুখি হতে হবে না।
৪. সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি
আবহাওয়া কিছুটা সহনীয় হলেও সৌদি সরকার তাদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত রাখবে। মিনায় এয়ারকন্ডিশনড তাবু, উন্নত মানের পরিবহন এবং মক্কা-মদিনায় হজযাত্রীদের জন্য শীতল পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে।
২০২৬ সালের হজের সম্ভাব্য সময়কাল
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২০২৬ সালের হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে মে মাসের ২৪ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে। এই সময়ে সৌদি আরবে গ্রীষ্মের প্রখরতা শুরু হয় না, বরং মনোরম বাতাস এবং সহনীয় রোদ থাকে।