Home আন্তর্জাতিক হরমুজ প্রণালীতে সামরিক জাহাজ ঢুকলে ‘কঠোর ব্যবস্থা’

হরমুজ প্রণালীতে সামরিক জাহাজ ঢুকলে ‘কঠোর ব্যবস্থা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো ধরনের সামরিক জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তাকে দুই সপ্তাহের অস্ত্রবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। রোববার ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই কৌশলগত জলপথটি বর্তমানে ইরানি নৌবাহিনীর ‘স্মার্ট ব্যবস্থাপনার’ অধীনে রয়েছে।
আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অসামরিক জাহাজ চলাচলের জন্য এই পথ উন্মুক্ত থাকবে। তবে পারস্য ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে নৌ কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, শত্রুপক্ষ যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে তারা এই প্রণালীতে তৈরি ‘মরণঘূর্ণিতে’ আটকা পড়বে। সেই সঙ্গে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে বিভিন্ন জাহাজকে লক্ষ্যবস্তুর (ক্রসহেয়ার) মধ্যে দেখা যাচ্ছে।
এই উত্তজনা মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক আকস্মিক ঘোষণার পর শুরু হয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের পক্ষ থেকে নৌ চলাচলে হুমকির প্রেক্ষাপটে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলো অবরোধ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু করার পর এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। যদিও চলতি সপ্তাহের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত ছিল এই প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়া।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। দীর্ঘ অবরোধের ফলে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে চরম জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, ইরান আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজগুলো থেকে ‘অবৈধ টোল’ আদায় করছে এবং যারা এই অর্থ প্রদান করবে তাদের মার্কিন বাহিনী বাধা দেবে।
তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ইরানি বাহিনী মার্কিন বা কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়, তবে তাদের ‘নরক দর্শনে’ পাঠানো হবে।
এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা কোনো সুরাহা ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান এখনো আলোচনার টেবিল ছেড়ে যায়নি।
তার মতে, ইরানের হাতে বর্তমানে কোনো ‘কার্ড’ বা দর কষাকষির শক্তি নেই, তাই তারা শিগগিরই ফিরে আসবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে।
businesstoday24.com ফলো করুন