আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনে এ বার সরাসরি বিশ্ব-বাণিজ্যের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ় প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ দাবি করল ইরান। আমেরিকার কাছে পাঠানো সর্বশেষ প্রস্তাবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে সংঘর্ষ থামাতে হলে এই কৌশলগত জলপথের ওপর ইরানের পূর্ণ কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ইরানের দেওয়া শর্তাবলীতে এই দাবিটি না থাকলেও, যুদ্ধের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একেই এখন তুরুপের তাস করতে চাইছে তারা।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান, অনড় ইরান: বর্তমানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাঠানো ১৫ দফার একটি প্রস্তাব ইতিমধ্যে তেহরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ইসলামাবাদ। তবে ইরান এখনই আলোচনায় বসতে নারাজ। এর আগে তারা তিনটি প্রধান শর্ত দিয়েছিল:
- ইরানের ‘ন্যায্য অধিকার’ নিশ্চিত করা।
- চলমান সংঘাতে ইরানের যে আর্থিক লোকসান হয়েছে, তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ।
- ভবিষ্যতে আমেরিকা ও ইসরায়েল আর আক্রমণ করবে না— এই মর্মে সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এখন এই তালিকার শীর্ষে যুক্ত হয়েছে হরমুজ় প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ।
কেন হরমুজ় নিয়ে এত কাড়াকাড়ি? পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট তেল ও এলপিজি সরবরাহের প্রায় ২০% বা পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই জলপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেলে বছরে কয়েকশ কোটি ডলার টোল বা মাশুল আদায়ের সুযোগ তৈরি হবে ইরানের সামনে।
মার্কো রুবিও এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে একে ‘বেআইনি’ ও ‘বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এমন প্রতিবন্ধকতা বিশ্ব অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে।









