হাবড়া-অশোকনগর
- দেশভাগের পরবর্তী সময়ে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া ও আনোয়ারা থেকে আসা মানুষের প্রধান গন্তব্য ছিল হাবড়া-অশোকনগর।
- জঙ্গল কেটে জনপদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষা ও ব্যবসায়িক প্রসারে চট্টগ্রামের মানুষের অনন্য অবদান।
- বনগাঁ ও বসিরহাট সীমান্ত এলাকায় চাটগাঁইয়া সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সরব উপস্থিতি।
- মেজবান, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা এবং আত্মীয়তার বন্ধন আজও এই অঞ্চলের প্রাণশক্তি।
কৃষ্ণা বসু, বসু: পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মানচিত্রে হাবড়া ও অশোকনগর এলাকাটি আজ অত্যন্ত উন্নত ও জনবহুল। তবে এই সমৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস, যার প্রধান কারিগর হলেন চট্টগ্রামের (চাটগাঁইয়া) মানুষেরা। ১৯শে শতকের মাঝামাঝি থেকে দেশভাগের উত্তাল সময়ে চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া এবং আনোয়ারা এলাকা থেকে ভিটেমাটি হারানো হাজার হাজার মানুষ এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন এই অঞ্চলে।
তৎকালীন সময়ে হাবড়া ও অশোকনগর ছিল মূলত জঙ্গল ও জলাভূমিতে ঘেরা এক প্রতিকূল পরিবেশ। চট্টগ্রামের লড়াকু মানুষেরা নিজেদের কঠোর পরিশ্রমে সেই জঙ্গল পরিষ্কার করে গড়ে তোলেন বসতি। রাউজান বা পটিয়ার সেই পরিচিত পরিবেশ না থাকলেও, তাঁরা এই মাটিতেই নিজেদের এক টুকরো চট্টগ্রাম গড়ে তোলেন।
আজ হাবড়া-অশোকনগরের যে বিশাল বাণিজ্যিক বাজার এবং নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দেখা যায়, তার ভিত্তিস্থাপনে চট্টগ্রামের অধিবাসীদের মেধা ও শ্রম ছিল অনস্বীকার্য। এখানকার বহু সফল ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদ আজও গর্বের সাথে তাঁদের চাটগাঁইয়া শিকড়ের কথা উল্লেখ করেন।
শুধু হাবড়া বা অশোকনগর নয়, এই সংস্কৃতির বিস্তার ঘটেছে সীমান্ত শহর বনগাঁ এবং বসিরহাটেও। বনগাঁর গাইডঘাটা বা বসিরহাটের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে পা রাখলে আজও বয়স্ক মানুষদের মুখে চাটগাঁইয়া উপভাষার সেই মিষ্টি টান শোনা যায়। এই মানুষগুলো সীমান্ত পেরিয়ে এলেও তাঁদের মন থেকে মোছেনি চট্টগ্রামের ঐতিহ্য। বনগাঁর অনেক পাড়ায় আজও ঘরোয়াভাবে মেজবানি আয়োজন করা হয়, যেখানে দূর-দূরান্তের আত্মীয়রা একত্রিত হন।
চট্টগ্রামের মানুষের এই প্রবাস জীবন এখন আর প্রবাস নেই, তা পশ্চিমবঙ্গের মূলধারার সাথে মিশে গেছে। তবে তাঁদের পূর্বপুরুষদের আনা চট্টগ্রামের রাউজান বা আনোয়ারার সেই মাটি আর সংস্কৃতির ঘ্রাণ আজও হাবড়া-অশোকনগরের বাতাসে মিশে আছে।
শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ব্যবসায়িক সাফল্যে এই অঞ্চল আজ যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা মূলত চট্টগ্রামের সেই জেদী ও পরিশ্রমী মানুষগুলোরই ফসল।
আরও নানা বিষয় জানত ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com










