Home আইন-আদালত শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ওয়েবসাইটে

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ওয়েবসাইটে

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি, ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ৪৫৭ পৃষ্ঠার এই বিশদ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
রায়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেছিলেন। পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়।
আজকের পূর্ণাঙ্গ রায়ে সেই নির্দেশনার আইনি ও তথ্যগত ভিত্তি সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রমাণিত পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ
আদালতের রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে, যেগুলোকে দুটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে:
১. উসকানি ও প্ররোচনা (আমৃত্যু কারাদণ্ড):
১৪ জুলাই ২০২৪-এ গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ সম্বোধন করে উসকানিমূলক বক্তব্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যের সাথে ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের ‘ফাঁসি দেওয়ার’ প্ররোচনা।
এই উসকানির চূড়ান্ত ফল হিসেবে রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশের গুলি করে হত্যা।
২. সরাসরি হত্যার নির্দেশ (মৃত্যুদণ্ড):
ড্রোনের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করে হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহার করে গণহত্যার নির্দেশ।
১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সাথে মেয়র ফজলে নূর তাপস ও হাসানুল হক ইনুর কথোপকথনে এই নির্দেশের প্রমাণ পায় আদালত।
এর ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুলে ৬ জন এবং সাভারের আশুলিয়ায় ৬ জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংসতা ঘটে।
সম্পত্তির বাজেয়াপ্তকরণ ও ক্ষতিপূরণ
রায়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, দণ্ডিতদের দেশে থাকা সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকার বাজেয়াপ্ত করবে। এই বাজেয়াপ্ত অর্থ ও সম্পদ জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজসাক্ষী ও বর্তমান অবস্থা
মামলার অন্যতম আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।