আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম সাক্ষী জাবালে নূর বা হিরা পাহাড়। এই দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানো যেখানে এক সময় ছিল কেবল তরুণ বা শারীরিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কাজ, সেখানে এখন আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬৪২ মিটার উঁচু এই পাহাড়ে উঠতে আগে প্রায় ১,২০০টি পাথুরে সিঁড়ি ভাঙতে হতো। এতে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগত এবং বয়স্ক বা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য এটি ছিল প্রায় অসম্ভব।
এই কষ্ট লাঘব করতেই সৌদি সরকার ক্যাবল কার সংযোগের এই মেগা প্রকল্প হাতে নেয়।
২. বর্তমান অবস্থা: নির্মাণ শেষের পথে
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাবল কারের অবকাঠামো, টাওয়ার স্থাপন এবং স্টেশন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। বর্তমানে কারগুলোর নিরাপত্তা পরীক্ষা (Safety Trial) এবং যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, খুব শীঘ্রই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
৩. ক্যাবল কারের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ (পরিকল্পিত)
দ্রুত যাতায়াত: পাহাড়ের পাদদেশ থেকে চূড়ার নিকটবর্তী পয়েন্টে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ১০ মিনিটেরও কম।
উন্নত প্রযুক্তি: প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বাতাসের গতিবেগ সহ্য করার মতো করে এটি নকশা করা হয়েছে।
হুইলচেয়ার সুবিধা: এটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে শারীরিক প্রতিবন্ধীরা তাদের হুইলচেয়ার নিয়েই কেবিনে প্রবেশ করতে পারেন।
৪. হিরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টের সাথে সংযোগ
পাহাড়ের নিচে গড়ে তোলা হয়েছে সুবিশাল ‘হিরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্ট’। ক্যাবল কারের মূল স্টেশনটি এই ডিস্ট্রিক্টের সাথেই যুক্ত। ফলে দর্শনার্থীরা নিচে নেমে ওহি মিউজিয়াম দেখা বা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ক্যাবল কার চালু হলে এটি এই ডিস্ট্রিক্টের মূল আকর্ষণে পরিণত হবে।
৫. কখন চালু হতে পারে?
যদিও এখনও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবে মক্কা নগরীর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বা হজের আগেই এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
বর্তমানের কঠোর ট্রায়াল পিরিয়ড শেষ হলেই সাধারণ মানুষের জন্য টিকিট উন্মুক্ত করা হবে।
হিরা গুহার পবিত্রতা এবং ঐতিহাসিক ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখেই এই আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। ক্যাবল কারটি চালু হলে তা হবে মক্কার পর্যটনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। যে বয়স্ক মানুষটি কেবল দূর থেকে হিরা পাহাড় দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলতেন, তিনিও তখন খুব কাছ থেকে ইসলামের সূতিকাগারটি দেখে প্রশান্তি লাভ করতে পারবেন।