বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: রক্তঝরা জুলাইয়ের সেই তপ্ত দুপুরগুলোতে রাজপথ কাঁপানো এক চিরচেনা দৃশ্য ছিল—গায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘১০ নম্বর জার্সি’, চোখেমুখে বিপ্লবের আগুন। ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের সেই আইকনিক জার্সিটি আজ কেবল একটি পোশাক নয়, বরং বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক অভিযাত্রার এক জীবন্ত স্মারক। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সেই ঐতিহাসিক জার্সিটি গায়ে জড়িয়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অন্দরে প্রবেশ করলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম রূপকার হাসনাত আবদুল্লাহ।
রাজপথের ধুলো থেকে সংসদের আসন
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যখন হাসনাত আবদুল্লাহ সংসদ ভবনে পা রাখেন, তখন উপস্থিত সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয় তার পরনের সেই নীল-সাদা জার্সিটি। যে পোশাক পরে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন, সেই একই পোশাকেই আজ তিনি জনমানুষের প্রতিনিধি হিসেবে শপথ নিতে এসেছেন।
বেলা ১টা ২০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এনসিপির আরও পাঁচ নির্বাচিত সদস্যসহ শপথ গ্রহণ করেন হাসনাত। পরে তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন।
কেন এই জার্সি?
আন্দোলন চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জার্সিটি হাসনাত আবদুল্লাহর অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘ লড়াইয়ের দিনগুলোতে তাকে প্রায় প্রতিটি সম্মুখ সমরে এই জার্সিতেই দেখা গেছে। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান এবং পরবর্তীতে এনসিপির আত্মপ্রকাশ পর্বেও তিনি এই সাধারণ টি-শার্টটির মায়া ত্যাগ করতে পারেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জার্সির মাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহ সাধারণ মানুষের কষ্ট ও জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দিতে চান। বিলাসবহুল স্যুট-টাই বা দামি পাঞ্জাবির ভিড়ে এই ১০ নম্বর জার্সিটি যেন এক নীরব বিদ্রোহ—যা জানান দেয়, এই সংসদ সাধারণ মানুষের, এই বিজয় রাজপথের যোদ্ধাদের।
এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা
শপথ শেষে হাসনাত আবদুল্লাহর চোখেমুখে ছিল আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। রাজপথের সেই লড়াকু সৈনিক আজ আইনপ্রণেতা। তবে পোশাকের মতো তার আদর্শও কি অপরিবর্তিত থাকবে? দেশবাসী এখন সেই অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছে।
businesstoday24.com-এর সাথেই থাকুন। এই প্রতিবেদনটি নিয়ে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে কমেন্ট করুন এবং আমাদের ফলো করুন।