Home চট্টগ্রাম চট্টগ্রামে ৩৩০ ‘দুষ্কৃতকারী’ বহিষ্কার: তালিকায় সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও মৃত কাউন্সিলর!

চট্টগ্রামে ৩৩০ ‘দুষ্কৃতকারী’ বহিষ্কার: তালিকায় সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও মৃত কাউন্সিলর!

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন এক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। তালিকাভুক্ত ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারীকে’ মহানগর এলাকা থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়। তবে এই তালিকায় মৃত ব্যক্তি এবং কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের নাম থাকায় শহরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সিএমপি কমিশনার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৮-এর ৪০, ৪১ ও ৪৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তালিকার ১ থেকে ৩৩০ নম্বর পর্যন্ত ব্যক্তিদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় প্রবেশ এবং অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় ‘হাইপ্রোফাইল’ নাম: প্রকাশিত তালিকায় চট্টগ্রামের রাজনীতিতে প্রভাবশালী একাধিক সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও মেয়রের নাম রয়েছে। তালিকায় উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো:
  • সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
  • সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
  • সাবেক এমপি এম এ লতিফ, মহিউদ্দিন বাচ্চু, ফজলে করীম চৌধুরী ও তার ছেলে ফারাজ করীম চৌধুরী।
  • নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতা নুরুল আজিম রনি ও হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর।
  • ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’ (তালিকার ৮৯ নম্বর)।
মৃত ও কারাবন্দিদের নাম নিয়ে বিতর্ক
এই তালিকার সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত দিক হলো মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্তি। তালিকার ২২৭ নম্বরে থাকা চসিকের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আতাউল্লাহ চৌধুরী ২০২৫ সালের নভেম্বরে মারা গেছেন। একজন মৃত ব্যক্তিকে শহর থেকে বহিষ্কারের এই আদেশ সিএমপির গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সদরঘাট থানা পুলিশ আতাউল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া তালিকায় এমন অনেকের নাম রয়েছে যারা বর্তমানে কারাগারে আছেন (যেমন: ফজলে করীম চৌধুরী ও এম এ লতিফ)। এ বিষয়ে সিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যেন জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা শওকত আজম খাজা:
তালিকায় ৪ নম্বরে রয়েছেন নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মুখপাত্র শওকত আজম খাজা। এতে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলের ২২টি মামলার মধ্যে ১৮টিই খারিজ হয়ে গেছে। বাকিগুলোয় হাজিরা দিচ্ছি। তালিকায় নিজের নাম দেখে আমি অবাক।” এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তারা পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান।
পুলিশের ব্যাখ্যা
তালিকার ভুলভ্রান্তি সম্পর্কে সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, “বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত যাচাই করে তালিকা সংশোধন করা হবে।”
 একদিকে অপরাধ দমনে সিএমপির এই কঠোর অবস্থানকে অনেকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও, মৃত ব্যক্তি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ থাকায় তালিকার সঠিকতা নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।