বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং তাদের বহুল প্রতীক্ষিত এবং ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের সর্ববৃহৎ সংস্করণ ‘৭৩৭ ম্যাক্স ১০’ (737 MAX 10)-এর চূড়ান্ত সার্টিফিকেশন ফ্লাইট টেস্ট শুরু করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং কারিগরি উন্নয়নের পর এই পরীক্ষাটি বোয়িংয়ের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পর্যায়ের পরীক্ষাগুলো মূলত পরিচালিত হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশন (FAA)-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে। এই পরীক্ষায় উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ফ্লাইট কন্ট্রোল সফটওয়্যার এবং ইঞ্জিনের সক্ষমতা কঠোরভাবে যাচাই করা হয়। যদি সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এটি বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহনের জন্য পূর্ণ অনুমোদন পাবে।
৭৩৭ ম্যাক্স ১০-এর বিশেষত্ব
ম্যাক্স ১০ মডেলটি মূলত এয়ারবাসের জনপ্রিয় এ৩২১নিও (A321neo) মডেলের সাথে পাল্লা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর বিশেষ কিছু দিক হলো:
আসন ক্ষমতা: এটি একক শ্রেণির কেবিনে সর্বোচ্চ ২৩০ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম।
সাশ্রয়ী জ্বালানি: পূর্ববর্তী প্রজন্মের তুলনায় এটি ২০% কম জ্বালানি সাশ্রয় করে এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনে।
উন্নত প্রযুক্তি: ককপিটে আধুনিক ডিসপ্লে সিস্টেম এবং উন্নত অ্যারোডাইনামিক উইংলেট ব্যবহার করা হয়েছে।
এসিবির (ACG) বড় বিনিয়োগ
বোয়িংয়ের প্রতি বাজারের আস্থা যে পুনরায় ফিরে আসছে, তার বড় প্রমাণ হলো এভিয়েশন ক্যাপিটাল গ্রুপ (ACG)-এর সাম্প্রতিক অর্ডার। প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে ৫০টি ৭৩৭ ম্যাক্স জেটের অর্ডার নিশ্চিত করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে লিজিং কোম্পানিগুলো যে পুনরায় সংকীর্ণ বডির (Narrow-body) দক্ষ বিমানের দিকে ঝুঁকছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা
বিগত কয়েক বছরে নিরাপত্তা ইস্যুতে বোয়িংকে অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাই ম্যাক্স ১০-এর এই সফল সার্টিফিকেশন কেবল ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, বরং বোয়িংয়ের হারানো ইমেজ পুনরুদ্ধারের একটি বড় সুযোগ। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ১,০০০-এর বেশি ম্যাক্স ১০ মডেলের অর্ডার দিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সাল হবে বোয়িংয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। ম্যাক্স ১০-এর অন্তর্ভুক্তি আকাশপথে ভ্রমণের খরচ কমিয়ে আনার পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোর অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।