Home সারাদেশ যশোরে নারীসহ অবরুদ্ধ ওসি, ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে

যশোরে নারীসহ অবরুদ্ধ ওসি, ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে

ছবি সংগৃহীত

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, যশোর: যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজে নারীঘটিত ঘটনায় তীব্র বিতর্ক ও আলোচনার মুখে পড়েছেন ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় তাকে ক্লোজ করে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি গঠিত হয়েছে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি।

জানা গেছে, গত ৩০ জুন রাতে যশোর শহরের ওয়াপদা এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিদর্শন বাংলোতে স্ত্রী পরিচয়ে এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন ওসি সাইফুল। তবে স্থানীয়রা ওই নারীকে তার স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় সন্দেহ জাগে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন রেস্ট হাউজ ঘেরাও করে ওসিকে নারীসহ অবরুদ্ধ করে রাখে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। গুঞ্জন রয়েছে, এই সময় ওয়াপদা এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র তার কাছ থেকে অর্থ আদায় করে।

এরপর থেকেই ডিএসবি’র পক্ষ থেকে গোপনে তদন্ত শুরু হয়। সেই সঙ্গে একটি এক ঘন্টা ১৩ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজ পৌঁছায় একটি স্থানীয় দৈনিক ‘গ্রামের কাগজ’-এর দপ্তরে। ভিডিও ফুটেজ ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ৬ জুলাই ওই পত্রিকায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের পরপরই যশোর-ঝিনাইদহসহ নানা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরেও।

ঘটনার সূত্র ধরে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ বিপিএম ওসি সাইফুল ইসলামকে থানা থেকে প্রত্যাহার করেন । তার বিরুদ্ধে চাকরি শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগে বিভাগীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ইমরান জাকারিয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপর দুই সদস্য হলেন কোটচাঁদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুন্না বিশ্বাস এবং কোট ইন্সপেক্টর। কমিটি ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং যশোর কোতোয়ালি থানা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রেস্ট হাউজসহ সংশ্লিষ্ট সেক্টরে তথ্য সংগ্রহ করছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, ওসি যিনি ওই নারীকে স্ত্রী হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে তার স্ত্রী নন। অবশ্য তিনি পরবর্তীতে সেই নারীকে তার ‘বান্ধবী’ বলেও উল্লেখ করেন। কিন্তু সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এমন কর্মসূচি চাকরি বিধির পরিপন্থী বলে প্রমাণ মিলেছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।