বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আজ ৫ আগস্ট, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক সন্ধিক্ষণের দিন। এক বছর আগে এই দিনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চাপে দেশত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে এই দিনকে সরকারিভাবে ‘গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
২০২৪ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন দ্রুতই বিস্তৃত হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার অভিযান ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট তা চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যায়। ওই দিন বিকেলে কারফিউ অমান্য করে লাখো মানুষের ঢল নামে গণভবনের দিকে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
পরদিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এক ঘোষণায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করেন। তিনি জানান, তিন বাহিনীর প্রধান, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে মাত্র ছয় মাসের মাথায় ৭ জানুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভা ও সংসদের অবসান ঘটে।
গণ-অভ্যুত্থানের স্মরণে আজ বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টার বাণীতে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও ছাত্র ইউনিয়ন দিবসটি পালনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে বলা হয়, আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতায় ১১৮ শিশুসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারায় এবং প্রায় ১২ হাজার মানুষ আহত হন। এসব ঘটনায় তদন্ত ও জবাবদিহির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
পূর্ববর্তী সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দমন-পীড়নের অভিযোগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।










