Home রকমারি সংবাদ চীনে চার-শিঙা বকরি, দর্শকদের চোখে বিস্ময়

চীনে চার-শিঙা বকরি, দর্শকদের চোখে বিস্ময়

ছবি: চায়না নিউজ
বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক: চীনের গুয়েজউ প্রদেশের কাইলি চিড়িয়াখানায় দেখা মিলেছে এক আশ্চর্য প্রাণীর—একটি বিরল চার-শিঙা বকরি, যাকে ঘিরে দর্শকদের কৌতূহল আর বিস্ময়ের শেষ নেই। অদ্ভুত গঠনের এই বকরিকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত মানুষ; কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বকরিটির মাথায় মোট চারটি শিং রয়েছে—দুটি ছোট শিং কপালের সামনে এবং আরও দুটি বড় শিং মাথার পেছনে। দেখতে যেন পৌরাণিক প্রাণীর মতো। তবু চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, বকরিটি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং খাবার-আচরণে স্বাভাবিক।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের প্রাণীকে বলা হয় “পলিসেরেট” (polycerate)—অর্থাৎ একাধিক শিংযুক্ত প্রাণী। জেনেটিক পরিবর্তনের ফলেই এমন গঠন তৈরি হয়। ফ্রান্সের গবেষণা সংস্থা INRAE এক গবেষণায় জানিয়েছে, “HOXD1” নামের একটি জিন শিংয়ের বৃদ্ধি ও অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। ওই জিনে সামান্য পরিবর্তন ঘটলেই দুইয়ের বদলে চার বা তারও বেশি শিং গজাতে পারে।

চিড়িয়াখানার পরিচালক লি হং বলেন, “এটি আমাদের জন্য বিরল এক উপহার। আমরা বকরিটিকে জন্মের পর থেকেই যত্নে রেখেছি। দর্শকদের আকর্ষণ বাড়লেও প্রাণীর আরাম ও সুরক্ষাকে আমরা সর্বাগ্রে রাখছি।”

কাইলি চিড়িয়াখানার কর্মীরা জানিয়েছেন, চার-শিঙা বকরিটি স্থানীয় প্রজাতিরই একটি বংশধর, কোনো বিশেষ প্রজনন প্রক্রিয়ার ফল নয়। জন্মের পর থেকেই এটি ছিল শারীরিকভাবে আলাদা। বর্তমানে বকরিটির জন্য আলাদা ঘের তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দর্শকরা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে প্রাণীটিকে দেখতে পাচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বকরিটির ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। কেউ বলছেন, এটি যেন রূপকথার “ম্যাজিকাল ক্রিয়েচার”, কেউ আবার তুলনা করছেন পৌরাণিক ইউনিকর্নের সঙ্গে।

প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, এমন প্রাণী কেবল দৃষ্টিনন্দন নয়—এটি জেনেটিক বৈচিত্র্য ও প্রাণীবিবর্তন বিষয়ে নতুন গবেষণার দিগন্তও খুলে দিতে পারে। প্রকৃতির অজানা সৃষ্টিশীলতা ও জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য নিদর্শন হয়ে উঠেছে এই চার-শিঙা বকরি।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বকরিটিকে দর্শনের জন্য স্থায়ীভাবে প্রদর্শনে রাখবে, তবে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ চলবে। দর্শকদেরও অনুরোধ করা হচ্ছে, যেন তারা প্রাণীটির কাছে না গিয়ে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করেন, যাতে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়।