ধারাবাহিক রোমান্টিক গল্প
চোখের ভাষা ও বাগানের রাত
স্মৃতি হাসান
রিহানা খাতার শেষ বাক্যগুলো পড়ার পরও কিছুক্ষণ নীরবেই বসে রইল। বাগানের শীতল বাতাস তার চুলকে লুপ্তভাবে ছুঁয়ে যাচ্ছিল, আর ফুলের মৃদু সুবাস মুহূর্তগুলোকে আরও গভীর করে তুলছিল।
রিয়াজ হেসে বলল, “তুমি কি বুঝতে পারছো, আমি সবসময় এই নিঃশব্দ মুহূর্তগুলো পছন্দ করি? কথার চেয়ে চোখের খেলা আমাদের কাছে সবসময় বেশি কথা বলে।”
রিহানা ধীরে nodded করে, “হ্যাঁ… সত্যিই। চোখের ভাষায় অনেক কিছু বোঝানো যায়, যা বলা যায় না। আর তোমার চোখে আমি বুঝতে পারি, তুমি ঠিক এই মুহূর্তে এখানে থাকতে চাও।”
সূর্যাস্তের আলো ধীরে ধীরে নীলিমার আভায় রঙিন হয়ে উঠল। তারা দুজনই বেঞ্চে বসে চুপচাপ একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিল। হঠাৎ রিয়াজ বলল,
“চলো আজ রাতও বাগানে থাকি। শুধু আমরা দুজন এবং এই শান্ত রাত।”
রিহানা হালকা হেসে মাথা নাড়ল। তারা ধীরে ধীরে বাগানের ছোট পাথুরে পথে হাঁটতে লাগল। চারপাশে ল্যাম্পের নরম আলো, গাছপালার ছায়া, এবং হাওয়ার মৃদু শব্দ—সবকিছু যেন এই মুহূর্তকে বিশেষ করে তুলছে।
রিয়াজ হঠাৎ থেমে বলল, “আজ আমি কিছু বলব যা আগে মনে হলেও বলিনি।” সে তার হাতের খাতা বের করল। “এইটা—সব অনুভূতি, ছোট ছোট গল্প, আর তোমার জন্য লেখা কিছু ভাবনা। তুমি চাইলে পড়তে পারো।”
রিহানা খাতা হাতে নিল। খাতা খুলতেই সে খেয়াল করল, প্রতিটি বাক্য রিয়াজের নিখুঁত সততা, উচ্ছ্বাস এবং ভরসা প্রকাশ করছে—কিভাবে সে ছোট ছোট মুহূর্তে রিহানার হাসি, চোখের খেলা এবং নিঃশব্দ বার্তা অনুভব করেছে।
“প্রথম দিন থেকে আমি তোমার চোখের গভীরতা বুঝতে চেয়েছি,” খাতার এক বাক্যে লেখা ছিল। “যে মুহূর্তে তুমি হেসেছিলে, বা চুপচাপ বসে ছিলে—সবই আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। আমি চাই আমাদের এই নিঃশব্দ সংযোগ কখনো ভাঙুক না।”
রিহানা চোখে চোখ রেখে বলল, “প্রত্যেকটা শব্দ যেন আমার হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে। এই খাতার প্রতিটি লাইন আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে—আমরা একে অপরকে বুঝতে পারি, শুধু দেখেই। আর সেই বোঝাপড়া কখনো বলে বোঝাতে হবে না।”
রিয়াজ মৃদু হাসল, “এটাই আমার প্রার্থনা। এই নিঃশব্দ মুহূর্তগুলো, চোখের ভাষা, আর খাতার কথা—সব মিলিয়ে আমাদের গল্প আরও গভীর করবে। আমরা হয়তো কথা কম বলি, কিন্তু অনুভূতি সবসময় সত্য। তুমি কি মনে করো, এই রাতটি আমাদের গল্পের জন্য বিশেষ হয়ে যাবে?”
রিহানা একটু লাজুকভাবে হেসে বলল, “হ্যাঁ, এই রাতটি এক অদ্ভুত শান্তি, আর আমরা একে অপরের কাছেই। মনে হচ্ছে, সবকিছু ঠিক আছে।”
রাতের হাওয়া আরও নরম হয়ে এলো। তারা বেঞ্চে বসে চুপচাপ, একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে, মনে মনে অগণিত কথাবার্তা বিনিময় হচ্ছে, অথচ একটিও উচ্চস্বরে বলা হচ্ছে না। তারা শুধু নিঃশব্দে হাসছে, চোখে চোখ রেখে বোঝাপড়া করছে।
আকাশে চাঁদ ওঠার সাথে সাথে বাগানের রঙিন আলো আরও উজ্জ্বল মনে হলো। ল্যাম্পের নরম আলোতে রিহানার চুলের ওপর হালকা রোদ পড়ছে। রিয়াজ ধীরে বলল,
“তুমি জানো, এই মুহূর্তগুলো সব সময় মনে থাকবে। হয়তো আমরা এগুলো কথা বলব না, কিন্তু মনে রাখব। এটা আমাদের গল্পের এক অমূল্য অধ্যায়।”
রিহানা খাতা আবার একবার টেনে নিল, যেন সেই মুহূর্তগুলোকে আরও নিজের মনে ঢুকিয়ে নেয়।
“আমি চাই,” সে ধীরে বলল, “আমাদের গল্প এমন নিঃশব্দ, সুন্দর, এবং সত্যিই আন্তরিক হোক। আমরা একে অপরকে বোঝি, শুধু দেখেই।”
রিয়াজও মাথা নেড়ে সম্মতি দিল। বাতাসের সঙ্গে তাদের হাসি মিশে গেল, রাতের চাঁদ তাদের ছায়ার সঙ্গে খেলতে লাগল। বাগানের ফুল, হালকা হাওয়া, এবং চোখের খেলা—সব মিলিয়ে একটি নিঃশব্দ, গভীর, হৃদয়স্পর্শী অধ্যায়ের সূচনা করল।










