ফিচার
ভূমধ্যসাগরের তীরে এক টুকরো হীরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলে, ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশির কোল ঘেঁষে জেগে আছে এক চিলতে ভূখণ্ড। আয়তনে এতটাই ছোট যে, পায়ে হেঁটেই পুরো দেশ ভ্রমণ করা সম্ভব। অথচ বিলাসিতা, আভিজাত্য আর ধনসম্পদে এটি টেক্কা দেয় বিশ্বের বাঘা বাঘা রাষ্ট্রকে। বলছিলাম বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ ‘মোনাকো’র কথা। ফরাসি রিভিয়েরার অংশ এই দেশটি যেন সৌন্দর্যের এক মূর্ত প্রতীক।
আয়তনে ক্ষুদ্র, ঘনত্বে বিশাল
ভ্যাটিকান সিটির পরেই পৃথিবীর বুকে স্বাধীন ও সার্বভৌম ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র হলো মোনাকো। এর মোট আয়তন মাত্র ২.০২ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু আয়তন ক্ষুদ্র হলেও জনবসতির দিক দিয়ে এটি বেশ নিবিড়। মাত্র এইটুকু জায়গায় বসবাস করেন প্রায় ৩৯ হাজার মানুষ। জনসংখ্যার এই ঘনত্বের কারণে (প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১৯,০০০ জন) মোনাকোকে বিশ্বের সর্বাধিক জনঘনত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ধনীদের স্বর্গরাজ্য ও করমুক্ত দেশ
মোনাকোর অর্থনীতির চাকা মূলত বিলাসিতাকে কেন্দ্র করেই ঘোরে। দেশটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো বিশ্বখ্যাত ‘মন্টে কার্লো ক্যাসিনো’। পর্যটন, রিয়েল এস্টেট এবং ব্যাংকিং খাত দেশটির আয়ের প্রধান উৎস। তবে মোনাকোর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এখানে কোনো আয়কর নেই। আর এই কারণেই বিশ্বের তাবৎ ধনী ব্যক্তিরা বসবাসের জন্য মোনাকোকে বেছে নেন। একে বলা হয় ধনীদের অন্যতম জনপ্রিয় আবাসস্থল। যদিও দেশটির অর্থনীতি অনেকাংশে ফ্রান্সের ওপর নির্ভরশীল, তবুও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তারা স্বাধীন সত্তা বজায় রাখে।
শাসনব্যবস্থা ও রাজকীয় ঐতিহ্য
মোনাকো একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। দেশটির বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রিন্স আলবার্ট (দ্বিতীয়)। ফরাসি ও ইতালীয় সংস্কৃতির সঙ্গে নিজস্ব ‘মোনেগাস্ক’ ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ দেখা যায় দেশটির জীবনযাত্রায়। এখানকার সরকারি ভাষা ফরাসি এবং অধিকাংশ মানুষ ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ফ্রান্সের ছায়া
ক্ষুদ্র এই দেশটির তিন দিক ঘিরে আছে ফ্রান্স, আর এক দিকে ভূমধ্যসাগর। ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক কারণে ফ্রান্সের সঙ্গে মোনাকোর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। একটি বিশেষ চুক্তির আওতায় মোনাকোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কিছু কূটনৈতিক কার্যক্রম ফ্রান্স পরিচালনা করে। জনসংখ্যা কম হওয়া এবং নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার নীতির কারণে দেশটি জাতিসংঘের সদস্য নয়, তবে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার সক্রিয় অংশীদার।
শেষ কথা
মানচিত্রের ক্ষুদ্র একটি বিন্দু হলেও বিশ্ব দরবারে মোনাকোর অবস্থান উজ্জ্বল। এটি কেবল একটি দেশ নয়, বরং বিলাসিতা ও রাজকীয় জীবনযাপনের এক অনন্য উদাহরণ। ক্যাসিনোর আলোর ঝলকানি, নীল সমুদ্রের হাতছানি আর করমুক্ত জীবনের সুবিধা, সব মিলিয়ে মোনাকো যেন পৃথিবীর বুকে এক টুকরো সাজানো বাগান।










