বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, মিরসরাই: মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমানের একটি কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে সাইফুর রহমানকে পুলিশের সহায়তার জন্য জামায়াত-শিবিরের কর্মী এবং গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের প্রস্তাব দিতে শোনা গেছে।
ভিডিওর বিষয়বস্তু
জানা গেছে, গত ২০শে নভেম্বর বিকেলে মিরসরাই থানায় বসে ভিডিওটি ধারণ করা হয়। এলাকায় ক্রমবর্ধমান ডাকাতির ঘটনা রোধে ওসির সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন জামায়াতের এই নেতা। ভিডিওতে সাইফুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, “মিরসরাইতে ক্রমবর্ধমান ডাকাতি চলছে… যদি আমরা দু-একটা ডাকাতকে স্ট্যান্ডবাই ধরতে পারতাম, শাস্তি দিতে পারতাম… তখন হয়তো সবাই মনে করত অ্যাকশনমূলক কাজটা বেশি হচ্ছে।”
ওসিকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “আপনি যদি লজিস্টিক সাপোর্ট চান, পুলিশের সঙ্গে যদি মনে করেন সহায়ক পুলিশ লাগবে, আমি শিবির-জামায়াতের লোক দেব। যদি আপনারা মনে করেন গোয়েন্দার লোক লাগবে, আপনি ইউনিয়ন ভিত্তিক গোয়েন্দা টিম গঠন করেন, আমি স্পেশালি লোক সাপ্লাই দেব।”
ভিডিওতে ডিজিএফআই এবং সাবেক এসপির সঙ্গে যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করেন সাইফুর রহমান।
ওসির প্রতিক্রিয়া
ভিডিওতে ওসি আতিকুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, তিনি এই প্রস্তাবে খুশি হয়েছেন। তিনি বলেন, “অন্তত ১৫টা দিন আপনারা আমাকে সহযোগিতা করেন, দেখেন কী রেজাল্ট আসে। আপনি যেটা প্রথমে প্রস্তাব দিয়েছেন, আমি এটাতে খুবই আনন্দিত এবং খুব খুশি হয়েছি। আপনাদের সমাজসেবী যারা আছেন… আমরা একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করি, আমার পুলিশের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। আমি সরাসরি যুক্ত থাকব। মাঠে তাদের তদারকি করব, তাদের সেফটি আমি দেব।”
সাইফুর রহমানের বক্তব্য
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমান দাবি করেছেন, তার বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এলাকায় ডাকাত, সন্ত্রাস বেড়ে যাওয়ায় আমরা অন্য রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে পুলিশের সাথে বসেছিলাম। পুলিশ জানিয়েছিল পর্যাপ্ত সোর্সের অভাবে অপরাধীদের গ্রেফতার করা কঠিন হচ্ছে। তখন আমি বলেছিলাম, পুলিশের প্রয়োজন হলে আমাদের জনশক্তি সহযোগিতা করবে। বিষয়টি ছিল এরকম।”
তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এবং ডাকাতদের সহযোগীরা তার কথাগুলো কেটে-ছেঁটে প্রচার করছে। এ ঘটনায় তিনি মামলার হুমকিও দিয়েছেন।
পুলিশ প্রশাসনের পদক্ষেপ
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভিডিওর বক্তব্যগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “পুলিশের সঙ্গে এমন আচরণ বা এ ধরনের ভাষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ এভাবে বলতে পারেন না।”
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।










