আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না পেয়ে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তার বোন আলিমা খান।
মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে দলের শীর্ষ নেতা ও বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক যোগ দেন। মধ্যরাত পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ থাকার কথা থাকলেও, জেল কর্তৃপক্ষ পিটিআই নেতাদের বারবার ফিরিয়ে দিচ্ছে। মঙ্গলবারও আলিমা খানকে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপরই তিনি জেলের অদূরে অবস্থান নেন।
পিটিআইয়ের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা এবং খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক সভাপতি জুনায়েদ আকবর খানসহ সিনিয়র নেতারাও বিক্ষোভে সংহতি জানান। পুলিশ দুই দফায় ইমরান খানের বোনদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করে এবং পরবর্তীতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়, যা ক্র্যাকডাউনের শঙ্কা তৈরি করে।
তবে আলিমা খান পিছু হটেননি। তিনি গাড়ি থেকে নেমে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে জেলের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। আদিয়ালা রোডের গোরখপুর বাজারের কাছে দাঙ্গা পুলিশ তাদের আটকে দিলে তিনি পুলিশি ব্যারিকেডের সামনেই রাস্তায় বসে পড়েন।
বিক্ষোভ চলাকালে আলিমা খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাষ্ট্র বেআইনিভাবে কাজ করছে এবং সংবিধান লঙ্ঘন করছে। গত ১৪ মাস ধরে ইমরান খানকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ নওয়াজ শরিফ যখন জেলে ছিলেন, তখন তার প্লেটলেট গুনতে সারাদিন ডাক্তার পাশে থাকত। এটি কেমন বিচার ব্যবস্থা?”
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “ইমরান খানকে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং একা রাখা হচ্ছে। তারা আমাদের লাঠিচার্জ করতে পারে বা গুলি করতে পারে, কিন্তু আমরা এখান থেকে নড়ব না।”
এদিকে পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর আলী খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও তাদের আটকানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “ইমরান খানের সঙ্গে তার স্ত্রী ও আইনজীবীদের দেখা করতে দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। রাজনীতিতে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু শত্রুতা বা দেশে বিভাজন কাম্য নয়।” তবে তিনিও ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে এলাকা ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ইমরান খানের আরেক বোন উজমা খান ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সেনাপ্রধান সম্পর্কে ইমরানের কড়া বার্তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। এর জেরে সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইমরান খানকে ‘মানসিক রোগী’ ও ‘নার্সিসিস্ট’ বলে অভিহিত করেন এবং সরকার জেল কোড লঙ্ঘনের অভিযোগে উজমা খানের সাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, আদিয়ালা জেলের বাইরে কেউ বিক্ষোভ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিটিআই নেতারা জানিয়েছেন, সিনেটর ফয়সাল ভাওদার এক চ্যালেঞ্জের জবাবেই মূলত কর্মীরা জেলের বাইরে জড়ো হয়েছেন। তারা শান্তিপূর্ণভাবেই তাদের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করছেন এবং প্রয়োজনে সারারাত অবস্থান করতে প্রস্তুত।










