হেলথ ডেস্ক: মানুষ কি আসলে বার্ধক্য বা ‘ওল্ড এজ’-এ মারা যায়? যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জার্মানির একদল বিজ্ঞানী। জার্মান সেন্টার ফর নিউরোডিজেনারেটিভ ডিজিজেস-এর গবেষকরা বলছেন, ‘বার্ধক্য’ কোনো মৃত্যুর কারণ নয়; বরং এটি শরীরের এমন একটি সময় যখন নির্দিষ্ট কিছু রোগ শরীরের ওপর চড়াও হয় এবং মানুষ মারা যায়।
গবেষণার মূল তথ্য: শরীরের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা কোনটি? গবেষকরা প্রায় ২,৪১০টি ময়নাতদন্তের (Autopsy) রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে রক্তসংবহনতন্ত্র বা সার্কুলেটরি সিস্টেমের ব্যর্থতা।
হৃদরোগের প্রভাব: ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, ৩৯ শতাংশ মৃত্যুর সরাসরি কারণ ছিল হার্ট অ্যাটাক। এমনকি ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী (শতায়ু) মানুষ, যাদের বাইরে থেকে সুস্থ মনে হতো, তাদেরও ৭০ শতাংশ মারা গেছেন হৃদরোগজনিত জটিলতায়।
অন্যান্য কারণ: প্রায় ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা এবং ১৮ শতাংশ ক্ষেত্রে স্ট্রোক মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
‘অ্যান্টি-এজিং’ ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন: বর্তমানে বাজারে প্রচলিত অ্যান্টি-এজিং বা বার্ধক্যরোধী ওষুধগুলো নিয়ে বিজ্ঞানীরা নেতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাদের মতে:
এই ওষুধগুলো আসলে বার্ধক্য ধীর করে না, বরং নির্দিষ্ট কোনো একটি রোগকে সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেয়।
ডিএনএ ড্যামেজ বা শরীরের ‘জম্বি সেল’ (মৃত কোষ যা শরীরে রয়ে যায়) বার্ধক্যের লক্ষণ হতে পারে, কিন্তু এগুলো সরাসরি প্রাণঘাতী নয়। এগুলো শরীরকে দুর্বল করে দেয়, ফলে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের মতো রোগগুলো সহজে আক্রমণ করতে পারে।
ভুল কি আমাদের ধারণায়? গবেষকদের দাবি, আমরা এতদিন বার্ধক্য কমানো বলতে যা বুঝিয়েছি, তা আসলে রোগের চিকিৎসা মাত্র। ৫টি মূল পয়েন্টে তারা বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন:
- বার্ধক্য কোনো সাধারণ প্রক্রিয়া নয় যা সারা শরীরে একইভাবে ঘটে।
- নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গের (যেমন হার্ট বা ফুসফুস) বিকল হওয়াই মৃত্যুর কারণ।
- ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ কেবল বার্ধক্যের লক্ষণ দেখায়, বার্ধক্য নিয়ন্ত্রণ করে না।
- তরুণ বয়সে চিকিৎসা শুরু না করলে বার্ধক্যের গতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
- দীর্ঘায়ু হওয়ার অর্থ বার্ধক্য ধীর হওয়া নয়, বরং রোগকে দেরিতে আমন্ত্রণ জানানো।










