বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: নতুন বছরের শুরুতেই এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। ২০২৬ সালের প্রথম পূর্ণিমা বা ঐতিহাসিকভাবে পরিচিত ‘উলফ মুন’ (Wolf Moon) এবার ‘সুপারমুন’ হিসেবে ধরা দেবে আকাশে। আজ ৩ ও ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই বিশাল আকৃতির চাঁদ দেখা যাবে।
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সুপারকো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৩ জানুয়ারি দিবাগত রাত থেকে ৪ জানুয়ারি ভোর পর্যন্ত চাঁদটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, যখন পূর্ণিমার চাঁদ তার কক্ষপথে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম বিন্দুতে (Perigee) অবস্থান করে, তখন তাকে ‘সুপারমুন’ বলা হয়। সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় এটি প্রায় ১৪ শতাংশ বড় এবং ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল দেখায়।
দৃশ্যমানতা ও সময়সূচী
কেবল বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোসহ উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার অধিকাংশ দেশ থেকে এই সুপারমুন দেখা যাবে।
- বাংলাদেশ ও ভারত: আজ ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকে দিগন্ত রেখায় বিশালাকৃতির চাঁদ উদিত হতে দেখা যাবে। ৪ জানুয়ারি ভোরে এটি পূর্ণ রূপ ধারণ করবে।পাকিস্তান: ৩ জানুয়ারি রাতে লাহোর ও করাচির আকাশে সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যাবে।
- যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র: ৩ জানুয়ারি রাত থেকেই আকাশে উজ্জ্বল উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাবে।
কেন একে ‘উলফ মুন’ বলা হয়?
প্রাচীন লোকগাঁথা ও আমেরিকান আদিবাসীদের পঞ্জিকা অনুসারে, জানুয়ারি মাসের পূর্ণিমাকে ‘উলফ মুন’ বা নেকড়ে চাঁদ বলা হয়। ধারণা করা হতো, শীতের এই সময়ে খাবারের সন্ধানে নেকড়েরা ক্ষুধার্ত অবস্থায় গ্রামের বাইরে চিৎকার করত, যা থেকে এই নামের উৎপত্তি।
দেখার পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সুপারমুন দেখার জন্য কোনো বিশেষ যন্ত্র বা টেলিস্কোপের প্রয়োজন নেই। তবে শহর থেকে দূরে অন্ধকার স্থানে বা উঁচু কোনো ভবনের ছাদ থেকে এটি সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে। বিশেষ করে চন্দ্রোদয়ের সময় যখন চাঁদ দিগন্তের কাছাকাছি থাকে, তখন এটি দেখতে সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর হয়।
২০২৬ সালে মোট তিনটি সুপারমুন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার প্রথমটি ঘটছে আজ। পরবর্তী সুপারমুনগুলো দেখা যাবে বছরের শেষ দিকে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে।










