চার প্রবাসীর শেষ ফেরা
মাহবুবুল হক, মাস্কাট: পরিবারের মুখে একটু হাসি ফোটানো, সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়ানো আর জরাজীর্ণ টিনের ঘরটা পাকা করার স্বপ্ন—এই তো ছিল চাওয়া। সেই স্বপ্নগুলোকেই পুঁজি করে সাতসমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়ে ওমানে পা রেখেছিলেন তারা। কিন্তু নির্মম নিয়তি সেই স্বপ্নগুলোকে মাঝপথেই থামিয়ে দিল। ওমানের মাস্কাটে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন চার বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালের সূর্যটা যখন মাস্কাটের আকাশে উঁকি দিচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘোবরা এলাকায় ঘটে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা। সারারাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম শেষে ক্লান্ত শরীরে একটি গাড়িতে করে নিজ বাসায় ফিরছিলেন তারা। হয়তো চোখে ছিল শান্তির ঘুম, আর মনে ছিল পরিবারের জন্য কিছু করার তৃপ্তি। কিন্তু পথিমধ্যে একটি ঘাতক গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় সবকিছু। পিচঢালা কালো রাস্তা মুহূর্তেই লাল হয়ে যায় বাংলার সোনার ছেলেদের রক্তে।
শূন্য হলো যে কোল
নিহতদের মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ার প্রদীপ কুমার আর রামুর লোকমান হাকিম ছিলেন পরিবারের আশার প্রদীপ। তাদের মৃত্যুতে উখিয়া ও রামুর সেই গ্রামগুলোতে এখন কেবলই কান্নার রোল। বাকি দুজন কুমিল্লার বাসিন্দা, যাদের পরিচয় এখনো কাগজে-কলমে পুরোপুরি মেলেনি, কিন্তু তাদের পরিবারের দীর্ঘশ্বাস ঠিকই পৌঁছে গেছে দেশের সীমানায়।
প্রতিবেশীরা আক্ষেপ করে বলছিলেন, “তারা তো শুধু কাজ করতে গিয়েছিল। একটু সুখের আশায় নিজের জীবনটাকে বাজি রেখেছিল। এখন সেই সুখের বদলে ঘরে ফিরবে তাদের নিথর দেহ।”
অপেক্ষার প্রহর এখন মর্গে
বর্তমানে চার প্রবাসীর মরদেহ পড়ে আছে মাস্কাটের কুলা হাসপাতালের হিমশীতল মর্গে। যেখানে প্রিয়জনের ডাক পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ওমানের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব তাদের মরদেহ দেশে পাঠানো হবে।
হয়তো কদিন পরেই কফিনবন্দি হয়ে তারা ফিরবেন প্রিয় মাতৃভূমিতে। কিন্তু যে সমৃদ্ধির খোঁজে তারা ঘর ছেড়েছিলেন, সেই শূন্যতা কি কোনোদিন পূরণ হবে? প্রদীপ বা লোকমানদের মতো রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন অকাল বিদায় আবারও মনে করিয়ে দেয়—পরবাসে প্রতিটি স্বপ্নের পেছনে লুকিয়ে থাকে এক একটি জীবনের চরম ঝুঁকি।
“পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে চিরতরে হারিয়ে গেলেন চার প্রবাসী ভাই। ওমানের মাস্কাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। 💔🇧🇩










