বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ফরিদপুর: নির্বাচনী লড়াই শুরু হওয়ার আগেই যেন এক বিশাল ‘ক্লিন সুইপ’ হয়ে গেল ফরিদপুর-১ (মধুখালী–বোয়ালমারী–আলফাডাঙ্গা) আসনে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিন শেষে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই আসনের জমা দেওয়া ১৫ জন প্রার্থীর একজনের মনোনয়নপত্রও বৈধ বলে গণ্য হয়নি।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় রিটার্নিং কর্মকর্তার এই ঘোষণা জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
কেন এই গণ-বাতিল ও স্থগিতের হিড়িক?
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মোল্লা জানিয়েছেন, ১৫ জনের মধ্যে ৭ জনের মনোনয়নপত্র সরাসরি বাতিল করা হয়েছে এবং ৮ জনের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।
হেভিওয়েটদের হোঁচট: চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মো. আবু জাফর এবং সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মতো দাপুটে নেতাদের মনোনয়নও স্থগিতের তালিকায়। মূলত হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
স্বতন্ত্রদের বাধা সেই ১ শতাংশ: বাতিল হওয়া ৭ জনই ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নিয়ম অনুযায়ী ১ শতাংশ ভোটারের তথ্যে গরমিল থাকায় তাদের স্বপ্ন আপাতত থমকে গেছে।
স্থগিত ও বাতিল হওয়া প্রার্থীদের তালিকা একনজরে:
| প্রার্থীর নাম | দল/ধরন | বর্তমান অবস্থা | কারণ (সংক্ষেপে) |
| শাহ মো. আবু জাফর | জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট | স্থগিত | ২ মামলার তথ্য গোপন |
| খন্দকার নাসিরুল ইসলাম | বিএনপি | স্থগিত | ৩ মামলার তথ্য জমা না দেওয়া |
| মো. ইলিয়াস মোল্লা | জামায়াতে ইসলামী | স্থগিত | আয় বিবরণীতে অসঙ্গতি |
| আরিফুর রহমান দোলন | স্বতন্ত্র | বাতিল | ভোটার তালিকায় ১% তথ্য ত্রুটি |
| লায়লা আরজুমান বানু | স্বতন্ত্র | বাতিল | ভোটার তালিকায় ১% তথ্য ত্রুটি |
“স্থগিত হওয়া প্রার্থীরা আজ বিকেলের মধ্যে সংশোধনীর সুযোগ পাবেন। আর বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিলের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।”
— মো. কামরুল হাসান মোল্লা, রিটার্নিং কর্মকর্তা।
ভোটের মাঠে এখন কী হবে?
সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র আটকে যাওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— তবে কি ফরিদপুর-১ আসনে কোনো ভোট হচ্ছে না? আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি প্রাথমিক প্রক্রিয়া। আপিল এবং সংশোধনী জমা দেওয়ার পর অনেক প্রার্থীই আবার রেসে ফিরে আসবেন। তবে একসাথে সবার মনোনয়ন আটকে যাওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
বিকেলের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কয়জন তাদের ত্রুটি সংশোধন করতে পারেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
এই বিষয়ে আপনার মতামত কী? হেভিওয়েট প্রার্থীদের এমন ভুল কি অনিচ্ছাকৃত নাকি কৌশল? কমেন্টে জানান আমাদের।










