Home Third Lead এলপিজি বাজারে অরাজকতা: সংকট কাটাতে আমদানিতে নামছে সরকার

এলপিজি বাজারে অরাজকতা: সংকট কাটাতে আমদানিতে নামছে সরকার

সংগৃহীত ছবি

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: চলমান সময়ে দেশের জ্বালানি বাজারে সবচেয়ে অস্থির খাতের নাম এলপিজি। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ে চলছে চরম অরাজকতা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে দাম নির্ধারণ করে দিলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই বললেই চলে। নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডার প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই সীমাহীন দুর্ভোগ আর কৃত্রিম সংকট থেকে ভোক্তাদের মুক্তি দিতে এবার সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খুচরা বাজারে দেখা গেছে, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছেন। সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে অনেক এলাকায় সিলিন্ডার লুকিয়ে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী এক সাধারণ ভোক্তা জানান, “সরকার দাম কমাল কি বাড়াল তাতে আমাদের লাভ হয় না। দোকানদার যা চায়, বাধ্য হয়ে তাই দিতে হয়। সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই ডাকাতী থামানো সম্ভব না।”

বাজারের এই লাগামহীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ১০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। চিঠিতে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এলপিজি বাজার বর্তমানে প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতের দখলে থাকায় সরকারের কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। বেসরকারি অপারেটরদের কেউ কেউ নিয়মিত আমদানি করতে না পারায় বাজারে যে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, তাকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু চক্র ফায়দা লুটছে।

আমদানির রূপরেখা

জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, সরকার বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী:

আমদানির দায়িত্ব: নেবে সরকার (বিপিসি)।

সংরক্ষণ ও বিপণন: বিপিসির নিজস্ব বড় অবকাঠামো না থাকায় বেসরকারি অপারেটরদের টার্মিনাল ও খালাস সুবিধা ব্যবহার করা হবে।

সরবরাহ: আমদানিকৃত গ্যাস দ্রুততম সময়ে বেসরকারি চ্যানেল ব্যবহার করেই ভোক্তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।

সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো। তাদের কর্মকর্তারা বলেছেন, “বিগত সময়ে এই খাতকে পুরোপুরি বাণিজ্যিক করে ফেলায় ভোক্তারা অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। সরকারিভাবে আমদানি শুরু হলে বাজারে একটি ভারসাম্য তৈরি হবে এবং সিন্ডিকেট ভাঙা সহজ হবে।”

সাধারণ ভোক্তারাও সরকারের এই পদক্ষেপে আশাবাদী। সাভারের এক গৃহিণী বলেন, “সরকার যদি সরাসরি বাজারে গ্যাস ছাড়ে, তবে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এটি একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।”

বর্তমানে দেশে বছরে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১৭ লাখ টন, যার সিংহভাগই রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। ২০৩০ সাল নাগাদ এই চাহিদা ৩০ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে সরকারি জোগান মাত্র ৫০ হাজার টন। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকারের আমদানির উদ্যোগ সফল হলে জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পকেট থেকে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়া বন্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।