Home সারাদেশ টাঙ্গাইল মহাসড়কে পাশবিকতা: বাসে আটকে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ও ভিডিও ধারণ

টাঙ্গাইল মহাসড়কে পাশবিকতা: বাসে আটকে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ও ভিডিও ধারণ

জব্দ করা সাভার পরিবহন

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক কলেজছাত্রীকে রাতভর আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এক ভয়াবহ ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বুধবার দিবাগত রাতে সাভার পরিবহনের একটি বাসে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে বাসের চালক, হেলপার ও চালকের সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ: ভুক্তভোগী ওই তরুণী (২৬) ঢাকার একটি সরকারি কলেজের ছাত্রী। পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি সাভারের রেডিও কলোনি থেকে আশুলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে ‘সাভার পরিবহন’র একটি বাসে ওঠেন। বাসটিতে তখন মাত্র দুইজন যাত্রী ছিলেন। তারা গন্তব্যে নেমে যাওয়ার পর বাসটি ফাঁকা হয়ে গেলে বাসের চালক ও সহকারীরা ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক আটকে ফেলে।

লুটতরাজ ও রাতভর পাশবিকতা: অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ষণের আগে তারা ছাত্রীর সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। এরপর বাসটি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে রাতভর ছাত্রীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় অভিযুক্তরা। ন্যাক্কারজনক বিষয় হলো, তারা এই ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখে।

যেভাবে ধরা পড়ল অভিযুক্তরা: বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটি সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাইওয়ে পুলিশের একটি টহল দল। পুলিশ এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে পুরো ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। পুলিশ হাতেনাতে বাসসহ তিনজনকে আটক করে এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: ১. মো. আলতাফ (২৫) – বাসের চালক ২. মো. সাগর (২৪) – হেলপার ৩. মো. রাব্বি (২১) – চালকের সহযোগী

এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. শরীফ জানান, ভুক্তভোগী ও আসামিদের টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমীন নিশ্চিত করেছেন যে, এ ঘটনায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ উদ্ধারের চেষ্টাসহ পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।