Home Third Lead শেয়ারবাজারে আড়াই মাস পর সূচক ৫০০০ পয়েন্টের উপরে

শেয়ারবাজারে আড়াই মাস পর সূচক ৫০০০ পয়েন্টের উপরে

 স্বস্তির সুবাতাস: বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি

জিনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি,ঢাকা: দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সূচকের ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে ইতিবাচক প্রবণতায় সপ্তাহ শুরু হয়েছে। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আড়াই মাস পর আবারও ৫ হাজার পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সূচকের পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেন এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারের সামগ্রিক ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে আশাবাদ বাড়ছে। অতীতের মতো বড় ধরনের ধসের শঙ্কা না থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় পর তারা পুনরায় সক্রিয়ভাবে লেনদেনে অংশ নিচ্ছেন, যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাজার পর্যালোচনায়:
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৬ দশমিক ২০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৫ দশমিক ১৮ পয়েন্টে। গত আড়াই মাসের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ অবস্থান। এর আগে গত ৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সূচক ছিল ৫ হাজার ১৯ পয়েন্টে।
অন্য সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৩ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে। একই সময়ে ব্লু-চিপ সূচক ডিএসই-৩০ ২৬ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৩৯ দশমিক ১৩ পয়েন্টে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৯০টির, কমেছে ৪২টির এবং ৫৭টির শেয়ারের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেনের চিত্র:
লেনদেনের চিত্রেও দেখা গেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। ডিএসইতে দিনটিতে মোট প্রায় ৪৭৪ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৩৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সে হিসাবে একদিনে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৯৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে ৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকার। আগের দিন সেখানে লেনদেন হয়েছিল ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯২টির দর বেড়েছে, ৫০টির দর কমেছে এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৮৪ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ১০৬ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসে সূচকটি ৮ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট বেড়েছিল।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বক্তব্য:
এই ইতিবাচক প্রবণতায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ লক্ষ্য করা গেছে।
মো. সেলিম মিয়া, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী: “অনেকদিন পর শেয়ারবাজারের এমন তেজিভাব দেখে ভালো লাগছে। গত কয়েক মাস ধরে লোকসান গুনতে গুনতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছে এবার কিছু লাভ দেখতে পাবো।”
ফারজানা আক্তার, গৃহিণী: “আমি অল্প কিছু টাকা শেয়ারে বিনিয়োগ করে থাকি। বাজার পড়ে গেলে খুব চিন্তা হয়। আজ যখন শুনলাম সূচক বেড়েছে, তখন মনে একটা শান্তি পেলাম। আশা করি এই ধারা বজায় থাকবে।”
আব্দুল খালেক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী: “বয়স হয়েছে, এখন আর ঝুঁকি নিতে চাই না। কিন্তু শেয়ারবাজারে লাভ হলে সেটাও মন্দ না। নির্বাচনের আগে বাজার ভালো হচ্ছে দেখে মনে হচ্ছে সরকার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারবে।”
রতন সাহা, তরুণ বিনিয়োগকারী: “আমি নতুন বিনিয়োগকারী। শুরু থেকেই বাজারের অস্থিরতা দেখে হতাশ ছিলাম। কিন্তু আজকের বাজার দেখে মনে হচ্ছে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। এখন একটু সাহস পাচ্ছি আরও বিনিয়োগ করার।”
এই ইতিবাচক প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের শেয়ারবাজার দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।