বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাজারে বন্যপ্রাণী পাচারের ‘স্বর্ণযুগ’ কি তবে শেষ? আফ্রিকা থেকে এশিয়ায় হাতির দাঁত ও বনরুইয়ের আঁইশ পাচারকারী শক্তিশালী সিন্ডিকেটগুলো এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে।
বন্যপ্রাণী পাচারবিরোধী সংস্থা ওয়াইল্ডলাইফ জাস্টিস কমিশন (WJC)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, সমন্বিত আন্তর্জাতিক অভিযান ও কঠোর নজরদারিতে এই অবৈধ ব্যবসার মেরুদণ্ড প্রায় ভেঙে পড়েছে।
পাচারের গ্রাফ এখন নিম্নমুখী:
WJC-এর তথ্যমতে, ২০১৯ সালের তুলনায় গত দুই বছরে পাচারের চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে।
বনরুইয়ের আঁইশ: রেকর্ড পরিমাণ পাচারের তুলনায় বর্তমান হার কমেছে প্রায় ৮৪%।
হাতির দাঁত: বড় আকারের চালান আটকের ঘটনা কমেছে প্রায় ৭৪%।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল সংখ্যাতত্ত্ব নয়, বরং পাচারকারী সিন্ডিকেটগুলোর সক্ষমতা হারানোর প্রমাণ। টন কে টন অবৈধ পণ্য এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে পাঠানোর সক্ষমতা এখন আর তাদের নেই।
‘বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা’: ধুঁকছে বড় নেটওয়ার্ক
প্রতিবেদনটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘Disruption and Disarray’। এতে দেখা যায়, নাইজেরিয়া এবং ভিয়েতনামের মতো প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টগুলোতে কড়াকড়ি বেড়ে যাওয়ায় পাচারকারীরা এখন দিশেহারা। বিশাল কন্টেইনারের বদলে তারা এখন ছোট ছোট পার্সেলে বা কুরিয়ার সার্ভিসের ওপর নির্ভর করছে।
এতে তাদের পরিচালন ব্যয় বাড়লেও মুনাফা কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে, যা এই কালো ব্যবসাকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে।
সাফল্যের চাবিকাঠি: ‘গোয়েন্দা কূটনীতি’ ও কঠোর অ্যাকশন
এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূলত তিনটি কার্যকর পদক্ষেপ কাজ করেছে:
১. মূল হোতাদের পাকড়াও: শুধু চুনোপুঁটি বা বাহকদের না ধরে নেটওয়ার্কের মূল নায়কদের (Kingpins) টার্গেট করা হয়েছে। নাইজেরিয়া ও ভিয়েতনামের অভিযানে শীর্ষ পাচারকারীরা এখন শ্রীঘরে। ২. রিয়েল-টাইম ডেটা শেয়ারিং: এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এখন চোখের পলকে হচ্ছে। ফলে জাহাজ বন্দর ছাড়ার আগেই গন্তব্য দেশ জেনে যাচ্ছে ভেতরে কী আছে। ৩. আর্থিক নজরদারি: মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে কঠোর নজরদারির ফলে পাচারের অর্থ লেনদেন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বদলে যাওয়া বাজার ও সচেতনতা:
চীনে হাতির দাঁত কেনাবেচা নিষিদ্ধ হওয়া এবং বনরুইয়ের আঁইশের তথাকথিত ঔষধি গুণ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ও দাম—দুই-ই তলানিতে ঠেকেছে।
আগামীর চ্যালেঞ্জ: লড়াই এখনও শেষ নয়:
WJC সতর্ক করেছে যে, বড় সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে পড়লেও পাচারকারীরা এখন ডার্ক ওয়েব এবং টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে ছোট পরিসরে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তাই অপরাধীদের দমনে নজরদারি শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই।