Home Second Lead বিডব্লিউটিসিসি-র আধুনিক ‘লাইটার ভেসেল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ উদ্বোধন

বিডব্লিউটিসিসি-র আধুনিক ‘লাইটার ভেসেল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ উদ্বোধন

নৌ-পরিবহন খাতে ডিজিটাল বিপ্লব

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: দেশের নৌ-পরিবহন খাতে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (BWTCC)। আজ শুক্রবার সকালে আগ্রাবাদস্থ কাদেরী চেম্বারে বিডব্লিউটিসিসি কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘লাইটার ভেসেল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
সফটওয়্যারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার এন্ড শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিডব্লিউটিসিসি-র সভাপতি ও নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী-র প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই ডিজিটাল রূপান্তর সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের প্রচেষ্টায় এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে দেশের প্রথম নৌ-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জাহাজী লি.
কেন এই উদ্যোগ?
দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে লাইটার জাহাজের সিরিয়াল ও বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে অনিয়ম, ধীরগতি এবং স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিত। নতুন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জাহাজ মালিক, আমদানিকারক ও এজেন্টদের আস্থার সংকট দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফটওয়্যারটির ১০টি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য:
বিডব্লিউটিসিসি এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে নৌ-খাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১০টি মূল ফিচার যুক্ত করেছে:
১. স্বয়ংক্রিয় সিরিয়াল ও স্বচ্ছতা: পতেঙ্গায় পৌঁছানোর পর জাহাজ কর্মীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মাত্র এক মিনিটে ডিজিটাল সিরিয়াল নিশ্চিত করতে পারবেন।
২. জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি: ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে সিরিয়াল নিশ্চিত করতে জিও-ফেন্সিং ব্যবহার করা হয়েছে, যা সিরিয়াল বাইপাস করার সুযোগ বন্ধ করবে।
৩. রিয়েল-টাইম বার্থিং লিস্ট: মালিকরা ঘরে বসেই অ্যাপে তাৎক্ষণিক বার্থিং লিস্ট দেখতে পাবেন।
৪. জরুরি সুরক্ষা (SOS): মাঝসমুদ্রে দুর্ঘটনায় দ্রুত সহায়তার জন্য বিশেষ এসওএস অ্যালার্ম ব্যবস্থা।
৫. স্টাফ প্রোফাইল ও মাইলেজ ট্র্যাকিং: মাস্টার ও ড্রাইভারদের কাজের অভিজ্ঞতা ও তথ্য ডিজিটাল প্রোফাইলে সংরক্ষিত থাকবে।
৬. দৈনিক স্ট্যাটাস ও আবহাওয়া বার্তা: পণ্য লোডিং-আনলোডিংয়ের সর্বশেষ অবস্থা এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস সরাসরি অ্যাপে পাওয়া যাবে।
৭. ড্যামারেজ সেটলমেন্ট সহজীকরণ: ডিজিটাল ও ফরেনসিক ডেটা সংরক্ষিত থাকায় ড্যামারেজ নিয়ে জটিলতা কমবে।
৮. সহজ ও স্মার্ট কমপ্লায়েন্স: বে-ক্রসিং ও সার্ভে সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র অ্যাপে থাকবে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ট পাওয়া যাবে।
৯. ডিজিটাল পাইলটিং কুপন: অ্যাপ থেকেই সরাসরি বিকাশ বা ব্যাংকের মাধ্যমে BIWTA-র অর্থ পরিশোধ করা যাবে।
১০. অটোমেশন: প্রাথমিক পর্যায়ে সিরিয়াল ও বরাদ্দ অটোমেশন হলেও ভবিষ্যতে পাইলটিং এবং ড্যামারেজ সেটলমেন্টের মতো জটিল বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
সফটওয়্যারটির সফল পথচলা প্রত্যাশা করে বিডব্লিউটিসিসি (BWTCC)-র মুখপাত্র  পারভেজ আহমেদ বলেন, “এই অ্যাপসটি পরিপূর্ণভাবে চালু হলে নৌ-পরিবহন সেক্টরে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম অনেকাংশেই কমে আসবে। ডিজিটাল অটোমেশনের ফলে সিরিয়াল বা বরাদ্দ নিয়ে যে অস্পষ্টতা ছিল, তা দূর হয়ে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।” তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আধুনিক এই প্রযুক্তির ব্যবহার জাহাজ মালিক ও স্টেকহোল্ডারদের ভোগান্তি কমিয়ে এই খাতকে আরও সুশৃঙ্খল ও গতিশীল করে তুলবে।
আগামীর প্রত্যাশা:বিডব্লিউটিসিসি-র কনভেনর হাজি সফিক আহমদ  আশা প্রকাশ করে জানান, এই অটোমেশন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের নৌ-পরিবহন খাতকে বিশ্বমানের আধুনিকতায় উন্নীত করবে এবং সরকারের ‘ব্লু-ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।