Home আন্তর্জাতিক পশ্চিমাদের নিন্দা ও ট্রাম্পের নীতি: কোন পথে যাচ্ছে মায়ানমার?

পশ্চিমাদের নিন্দা ও ট্রাম্পের নীতি: কোন পথে যাচ্ছে মায়ানমার?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মায়ানমারের জান্তা সরকারের আয়োজিত তিন দফার সাধারণ নির্বাচন গত সপ্তাহে সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, সামরিক জান্তার প্রক্সি হিসেবে পরিচিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (USDP) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তবে এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের সাধারণ মানুষ এবং অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ।
নির্বাচনের ফলাফল ও জান্তার অবস্থান
গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হয়ে ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত চলা এই নির্বাচনে ৪২০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশন (UEC) জানায় যে, USDP নিম্নকক্ষে ২৩১টি এবং উচ্চকক্ষে ১০৮টি আসনসহ মোট ৩৩৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। ২৫ শতাংশ সংসদীয় আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত থাকায় জান্তা সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হয়েছে।
জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং এই নির্বাচনকে “জনগণের পছন্দ” বলে দাবি করলেও, গণতন্ত্রকামী দলগুলোর অনুপস্থিতি ও কড়া নজরদারিতে এই ভোট সম্পন্ন হয়েছে।
চীনের সমর্থন ও কৌশলগত স্বার্থ
চীন প্রথম দেশ হিসেবে এই নির্বাচনকে প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানিয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন নির্বাচনটিকে “সুশৃঙ্খল” বলে বর্ণনা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই সমর্থনের পেছনে রয়েছে গভীর কৌশলগত স্বার্থ:
বিআরআই (BRI) প্রকল্প: মায়ানমারে চীনের মহাসড়ক, তেল-গ্যাস পাইপলাইন এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে।
স্থিতিশীলতার আকাঙ্ক্ষা: চীন মনে করে জান্তা সরকারই এই অঞ্চলে তাদের বিনিয়োগ ও স্বার্থের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম।
ভারত মহাসাগরে প্রবেশপথ: মায়ানমার চীনের জন্য ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর।
চরম মানবিক সংকট ও সংঘাত
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মায়ানমারের পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী:
বিস্থাপিত মানুষ: সংঘাত ও ২০২৫ সালের মার্চের ভূমিকম্পের ফলে বর্তমানে মায়ানমারে প্রায় ৩৬ লক্ষ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বিস্থাপিত (IDP)।
সাহায্যের প্রয়োজন: ২০২৬ সালের মানবিক সহায়তা পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ১ কোটি ৬২ লক্ষ মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।
প্রাণহানি: গত কয়েক বছরে সামরিক হামলা ও গৃহযুদ্ধে ৬,০০০-এর বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দোদুল্যমান নীতি
সাবেক বাইডেন প্রশাসন মায়ানমারের জান্তার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও, নবনির্বাচিত ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে মার্কিন নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র জান্তা সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে, যা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছে।
তবে জনসমক্ষে ওয়াশিংটন এখনও জান্তার শাসনকে অবৈধ বলে যাচ্ছে এবং গণতন্ত্রকামীদের সহায়তার কথা বলছে।
মায়ানমারের সাধারণ মানুষের বার্তা স্পষ্ট: তারা জান্তা বা বিদেশী প্রভাব—কারোরই অধীনতা চায় না। রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ আর অর্থনৈতিক ধসের মাঝে দাঁড়িয়ে তারা এখনও একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক মায়ানমারের স্বপ্ন দেখছে।