Home First Lead ভোট দর্পন ২০২৬: মাটির মানুষের মনের কথা

ভোট দর্পন ২০২৬: মাটির মানুষের মনের কথা

নয়ন দাস, কুড়িগ্রাম: মাঝখানে আর মাত্র ১০ দিন। এরপরই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরলা পাড়ের গ্রামগুলোতে এখন বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে এই হাওয়া যতটা না উৎসবের, তার চেয়ে বেশি যেন এক বুক প্রত্যাশা আর না-বলা অভিযোগের।

গ্রামের মেঠোপথ ধরে এগোতেই দেখা হলো রহমত আলীর (৪৮) সাথে। পেশায় তিনি একজন আদর্শ কৃষক। নিজের দুই বিঘা জমির পাশাপাশি অন্যের আরও তিন বিঘা জমি ‘লগ্নি’ (বর্গা) নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করেন। কর্দমাক্ত হাতে কাস্তে সামলাতে সামলাতে তিনি কথা বললেন আগামী নির্বাচন এবং তার স্বপ্নের নতুন সরকারকে নিয়ে।
ন্যায্য দামের হাহাকার ও উপকরণের চড়া বাজার
রহমত আলীর কণ্ঠে প্রথমেই ঝরে পড়ল আক্ষেপ। তিনি বলেন, “হামরা রক্ত পানি করি আবাদ করি, কিন্তু বেচবার গেইলে দাম পাই না। ফড়িয়ারা লাভ খায়, আর হামার পকেট খালি থাকে। যে সরকারই আসুক, হামার দাবি একটাই—ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা লাগবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এ্যালা সারের দোকানে গেইলে কয় সার নাই। বেশি টাকা দিলে আবার সব পাওয়া যায়। এই সিন্ডিকেট বন্ধ করা লাগবে। সার, কীটনাশক আর বীজের দাম এমন হওয়া নাগবে যেন হামার মতন ছোট কৃষক হাপিয়ে না ওঠে।”
সহজ কৃষি ঋণ ও দোরগোড়ায় সেবা
কৃষি ঋণ নিয়ে তার অভিজ্ঞাতা বেশ তিক্ত। রহমত আলীর মতে, “ব্যাংকে গেলে এক গাদা কাগজ চায়, দালালের টাকা ছাড়া লোন মেলে না। হামরা চাই নতুন সরকার কৃষি ঋণ পাওয়া পানির মত সহজ করবে।” পাশাপাশি তিনি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাঠকর্মীদের  অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। “গ্রামের ব্লকে যে অফিসার আছে, তার মুখ হামরা বছরেও দেখি না। পরামর্শ নিতে হলে উলিপুর টাউনে যাওয়া লাগে। সরকারের লোক যেন গ্রামে গ্রামে এসে পরামর্শ দেয়, সেই ব্যবস্থা চাই।”
চিকিৎসা ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি
শুধু কৃষি নয়, রহমত আলীর চিন্তায় আছে সংসারের নিত্যদিনের টানাপোড়েনও। চাল, ডাল আর তেলের দামের কথা তুলতেই তিনি কিছুটা নিস্তব্ধ হয়ে গেলেন। বললেন, “বাজারে গেলে হাত পুড়ে যায়। প্রতিদিনের খরচ মিলাতে হিমশিম খাচ্ছি। আর অসুখ-বিসুখ হইলে তো কথাই নাই। জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম আকাশচুম্বী। হামরা চাই গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো যেন ঠিকমতো ওষুধ দেয় আর চিকিৎসা সেবা যেন হামার ঘরের দোরগোড়ায় পৌঁছায়।”
দুর্নীতির বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ
সাক্ষাৎকারের শেষে রহমত আলী জোর দিয়ে বলেন দুর্নীতির কথা। তার স্পষ্ট কথা— “সরকার যদি ঠিকমতো তদারকি করে আর দুর্নীতি কমায়, তাইলে সারের দামও কমবে আর চিকিৎসার সেবার মানও বাড়বে। আমরা চাই এমন এক সরকার, যারা সাধারণ মানুষের কষ্ট বুঝবে এবং কথা দিয়ে কথা রাখবে।”
উলিপুরের চরাঞ্চলের এই মেহনতি মানুষের চোখেমুখে এখন কেবলই পরিবর্তনের স্বপ্ন। ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট পেপারে তিনি সেই স্বপ্নেরই প্রতিফলন ঘটাতে চান।

এ ধরণের আরও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com