Home First Lead খোলা ড্রামের বিষে বিপন্ন জনস্বাস্থ্য; নিষিদ্ধ হলেও কমেনি ঝুঁকি

খোলা ড্রামের বিষে বিপন্ন জনস্বাস্থ্য; নিষিদ্ধ হলেও কমেনি ঝুঁকি

ছবি এ আই
ফরিদুল আলম, ঢাকা: রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সাজানো নীল রঙের নন-ফুড গ্রেড প্লাস্টিক ড্রাম। সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেদারসে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন ও পাম তেল। নাম-পরিচয়হীন এসব ড্রামের তেল কেবল জনস্বাস্থ্যের জন্যই হুমকি নয়, বরং দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতের পথেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইনি নিষেধাজ্ঞা ও বর্তমান বাস্তবতা
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মান নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং নকলের প্রবণতা বাড়ায় বাংলাদেশে খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল (সয়াবিন ও পাম) বিক্রি ১ আগস্ট ২০২৩ থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আন্তমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও মাঠ পর্যায়ে এর প্রয়োগ সীমিত। বাজার ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ সস্তায় পাওয়ার আশায় এখনো এই নিষিদ্ধ খোলা তেলের দিকেই ঝুঁকছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেবল রাজধানী ঢাকায় নয়, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে এমন অবস্থা।
মানহীন তেল ও ভিটামিন ‘এ’ এর অনুপস্থিতি
গবেষণা ও মাঠ পর্যায়ের তথ্যে খোলা তেলের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে:
পুষ্টির ঘাটতি: প্রায় ৫৯ শতাংশ খোলা ভোজ্যতেলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’ থাকে না। খোলা অবস্থায় আলো, বাতাস ও অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসায় তেলের পুষ্টিগুণ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
দূষণ ও ভেজাল: খোলা তেল সাধারণত নাম-পরিচয়হীন অপরিচ্ছন্ন ড্রামে বিক্রি হয়, যার মান যাচাই করা প্রায় অসম্ভব। কেমিক্যাল পরিবহনে ব্যবহৃত ড্রাম বারবার ব্যবহারের ফলে তেল বিষাক্ত হয়ে পড়ছে।
বিপন্ন শৈশব ও জনস্বাস্থ্য
জাতীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট জরিপ ২০১৯-২০ অনুযায়ী, ০৬-৫৯ মাস বয়সি শিশুদের ৫০.৯ শতাংশই ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতিতে ভুগছে। ২০১৩ সালে তেল সমৃদ্ধকরণ আইন করা হলেও খোলা ড্রাম এই আইন বাস্তবায়নে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন,

“ভিটামিন সমৃদ্ধ ভোজ্যতেল জনগণের পুষ্টি ঘাটতি মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য উন্নয়নে একটি কার্যকর উপায়। খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধ হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব।”

সুরক্ষার পথ: প্যাকেটজাত ও অস্বচ্ছ মোড়ক
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্যতেল ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে ‘আলো প্রতিরোধী অস্বচ্ছ মোড়ক’ অপরিহার্য। গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাকেটজাত তেল তুলনামূলক নিরাপদ এবং ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ থাকে। সূর্যরশ্মি থেকে তেলকে বাঁচাতে এবং মান অটুট রাখতে ড্রামের বদলে প্যাকেটজাত তেলের বিকল্প নেই।
১ আগস্ট ২০২৩ থেকে কার্যকর হওয়া নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ জরুরি। একইসাথে ভোক্তাদের সচেতন হতে হবে যেন তারা নামহীন ড্রামের তেলের বদলে বিএসটিআই অনুমোদিত মোড়কজাত তেল বেছে নেন।