Home নির্বাচন মৌলভীবাজার-৪: জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি চা শ্রমিকদের হাতে

মৌলভীবাজার-৪: জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি চা শ্রমিকদের হাতে

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসন। এ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বরাবরের মতো এবারও ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন চা শ্রমিকরা। প্রায় লক্ষাধিক চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্য ভোটাররা যেদিকে ঝুঁকববেন, জয়ের পাল্লা সেদিকেই ভারী হবে—এমন হিসাব কষেই প্রার্থীরা এখন বাগানগুলোতে দিনরাত প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ফিনলে, ডানকান ব্রাদার্স ও ন্যাশনাল টি কোম্পানিসহ (এনটিসি) ছোট-বড় বিভিন্ন বাগানে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রার্থীরা বড় পথসভার চেয়ে চা বাগানভিত্তিক উঠান বৈঠক ও শ্রমিক সমাবেশকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দলবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার প্রবণতা থাকায় এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিজেদের পক্ষে টানাই এখন প্রার্থীদের প্রধান লক্ষ্য।

প্রার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিসমূহ

  • চা শ্রমিকদের মন জয়ে প্রার্থীরা প্রধানত তিনটি বিষয়ে জোরালো আশ্বাস দিচ্ছেন:
  • মজুরি বৃদ্ধি: বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে দৈনিক মজুরি পুনর্নির্ধারণ।
  • ভূমির অধিকার: শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ভূমি অধিকার’ নিশ্চিত করা।
  • মৌলিক সুবিধা: বাগান এলাকায় মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ।

সচেতন ভোটার ও শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী জানান, “প্রার্থীরা প্রতিবারই অনেক কথা বলেন, তবে এবার আমরা সচেতন। যারা আবাসন ও রেশনের স্থায়ী সমাধান করবে, তাদেরই আমরা বেছে নেব।” এদিকে কানিহাটি চা বাগানের নেতা সীতারাম বীন জানান, শ্রমিকরা এবার হিসাব করে ভোট দিলেও ‘হ্যাঁ-না’ ভোট বা জটিল নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের ধারণা কিছুটা কম।

মাঠে আছেন যারা

এ আসনে মোট ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮ জন ভোটারের রায় পেতে লড়াই করছেন ৬ জন প্রার্থী:

মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (বিএনপি – ধানের শীষ)

শেখ নুরে আলম হামিদী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ১১ দলীয় জোট – রিকশা)

প্রীতম দাশ (জাতীয় নাগরিক পার্টি ও ১০ দলীয় জোট – শাপলা কলি)

মো. মহসিন মিয়া মধু (স্বতন্ত্র – ফুটবল)

মোহাম্মদ জরিফ হোসেন (জাতীয় পার্টি – লাঙল)

মো. আবুল হাসান (বাসদ – মই)

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে।