Home স্বাস্থ্য কেন কিডনি রোগীরা হৃদরোগে আক্রান্ত হন? কারণ খুঁজে পেলেন গবেষকরা

কেন কিডনি রোগীরা হৃদরোগে আক্রান্ত হন? কারণ খুঁজে পেলেন গবেষকরা

হেলথ ডেস্ক: দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে (Chronic Kidney Disease) আক্রান্ত অর্ধেক রোগীই কেন হৃদরোগের জটিলতায় ভোগেন?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছেন মার্কিন একদল গবেষক। গত ১লা ফেব্রুয়ারি দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
গবেষণার মূল তথ্যাদি নিচে তুলে ধরা হলো:
হৃদরোগের মূল ঘাতক: “বিষাক্ত অণু” বা মাইক্রোপার্টিকেল
আইকান স্কুল অফ মেডিসিন অ্যাট মাউন্ট সিনাই এবং ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়া স্কুল অফ মেডিসিনের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কিডনি রক্তস্রোতে এক ধরণের বিষাক্ত অণু (Toxic Microparticles) নিঃসরণ করে। এই অণুগুলো সরাসরি হৃদপিণ্ডকে আক্রমণ করে। গবেষণাপত্রটি চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী সার্কুলেশন-এ প্রকাশিত হয়েছে।
কিভাবে এই বিষাক্ত বোমা কাজ করে?
এক্সট্রা সেলুলার ভেসিকল: কোষগুলো তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এক ধরণের ‘ন্যানো-ডেলিভারি প্যাকেজ’ ব্যবহার করে, যাকে বলা হয় এক্সট্রা সেলুলার ভেসিকল। সুস্থ অবস্থায় এগুলো প্রোটিন ও জেনেটিক তথ্য বহন করে।
বিষাক্ত রূপান্তর: কিডনি যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন এই ভেসিকলগুলো “বিষাক্ত বোমায়” রূপান্তরিত হয় এবং সরাসরি হৃদপিণ্ডের পেশিতে আঘাত হানে।
ক্ষতিকারক আরএনএ (RNA): গবেষকরা ৫০ জন সুস্থ ব্যক্তি ও ৫০ জন কিডনি রোগীর রক্তের নমুনা তুলনা করে দেখেছেন যে, অসুস্থ ব্যক্তিদের রক্তে “নন-কোডিং আরএনএ” সমৃদ্ধ মাইক্রোপার্টিকেল রয়েছে। এই বিশেষ জেনেটিক উপাদানটি হৃদপিণ্ডের টিস্যু শক্ত করে ফেলে (ফাইব্রোসিস) এবং হৃদপেশির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন মোড়
এর আগে ধারণা করা হতো যে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, বার্ধক্য বা শরীরে প্রদাহের মতো পরোক্ষ কারণে কিডনি রোগীদের হৃদরোগ হয়। তবে এই প্রথম প্রমাণিত হলো যে, কিডনি সরাসরি হৃদপিণ্ডের ক্ষতি করার জন্য বিষাক্ত পদার্থ পাঠায়।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রতিকার
গবেষক দলটি প্রাণীদেহে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন যে, ওষুধের মাধ্যমে রক্তে এই বিষাক্ত অণুর পরিমাণ কমিয়ে আনলে হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং হার্ট ফেইলিয়রের ঝুঁকি কমে। এর ফলে ভবিষ্যতে:
মাত্র এক ফোঁটা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আগেভাগেই হৃদরোগের ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এই বিষাক্ত কণাগুলো কমানোর জন্য নতুন ওষুধ তৈরি করা যাবে, যা কিডনি রোগীদের জীবন বাঁচাতে সহায়ক হবে।
আপনি কি এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করে কোনো সচেতনতামূলক পোস্ট বা অনুচ্ছেদ তৈরি করতে চান? আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি।