আজহার মুনিম শাফিন,লন্ডন: যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যায় ঐতিহাসিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভারত ও চীনসহ প্রধান দেশগুলো থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির হার টানা দ্বিতীয় বছরের মতো হ্রাস পেয়েছে। মূলত ব্রিটিশ সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ভিসা নিয়মে পরিবর্তনের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
হায়ার এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকস এজেন্সি (HESA) গত সপ্তাহে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উঠে আসা প্রধান বিষয়গুলো হলো:
সামগ্রিক পতন: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির হার গত বছরের তুলনায় ৬% কমেছে (বর্তমানে ৬,৮৫,৫৬৫ জন)। এটি এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন।
স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রভাব: সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে স্নাতকোত্তর (Postgraduate) পর্যায়ে, যেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি ১০% কমেছে। তবে স্নাতক পর্যায়ে সামান্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
দেশভিত্তিক চিত্র:
ভারত: শিক্ষার্থী সংখ্যা ১১.৫% কমলেও এখনো ভারতীয়রাই একক বৃহত্তম গোষ্ঠী (১,৪৬,৪৮০ জন)।
চীন: চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪.৩% কমে ১,৪৩,২০০ জনে দাঁড়িয়েছে।
নাইজেরিয়া: নাইজেরীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০২২-২৩ সালের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।
পাকিস্তান ও নেপাল: নেতিবাচক ধারার মধ্যেও পাকিস্তান ৩য় অবস্থানে উঠে এসেছে এবং নেপাল থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি অবিশ্বাস্যভাবে ৯১% বৃদ্ধি পেয়েছে।
HESA এবং বিভিন্ন শিক্ষা বিশেষজ্ঞের মতে, নিচের কারণগুলো শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহের মূলে রয়েছে:
১. ডিপেন্ডেন্ট ভিসা বন্ধ: ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে গবেষণাধর্মী কোর্স ছাড়া অন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সাথে পরিবারের সদস্য (নির্ভরশীল ব্যক্তি) আনার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ডিপেন্ডেন্ট ভিসা ইস্যু হওয়ার হার ৮১% হ্রাস পেয়েছে। ২. থাকার মেয়াদ হ্রাস: সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে যে, ২০২৭ সাল থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করা শিক্ষার্থীরা মাত্র ১৮ মাস কাজের জন্য থাকার সুযোগ পাবেন, যা আগে ছিল দুই বছর। (পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ বছর বহাল থাকছে)। ৩. আর্থিক সক্ষমতা: শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রমাণ দেখানোর অঙ্ক বাড়ানো হয়েছে। লন্ডনের বাইরের জন্য ১,১৭১ পাউন্ড এবং লন্ডনের ভেতরে পড়াশোনার জন্য ১,৫২৯ পাউন্ড মাসিক খরচের প্রমাণ দেখাতে হবে। ৪. অন্যান্য: পাউন্ডের বিনিময় হার এবং যুক্তরাজ্যে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ও শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব: ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকেও শিক্ষার্থী আসার হার ১৬% কমেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক পতন ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের ওপর বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।