বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র নির্বাচনী ইশতেহারে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। দলের নির্বাচনী ইশতেহারে এই মহাপরিকল্পনার মূল ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ‘জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড’।
জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড-এর রূপরেখা
ইশতেহারে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি প্রান্তকে আকাশপথে যুক্ত করতে এই গ্রিড কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
- প্রথম ধাপে: দেশের সকল বিভাগীয় শহরের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপন করা হবে।
- দ্বিতীয় ধাপে: জেলা শহরগুলোকে এই গ্রিডের আওতায় আনা হবে। এজন্য দেশের পরিত্যক্ত বিমানবন্দর ও ছোট এয়ারস্ট্রিপগুলো সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হবে।
তিন বিমানবন্দরকে লজিস্টিক হাব করার ঘোষণা
বিএনপির এই পরিকল্পনায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরকে কেবল যাত্রী পারাপারের কেন্দ্র নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক লজিস্টিক ও কার্গো হাবে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
- ঢাকা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে এশিয়ার অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে গড়া হবে।
- চট্টগ্রাম: সমুদ্র ও আকাশপথের সমন্বয়ে শাহ আমানত বিমানবন্দরকে একটি বৃহৎ লজিস্টিক গেটওয়ে করা হবে।
- সিলেট: ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের সাথে সরাসরি কার্গো কানেক্টিভিটি বাড়ানো হবে।
আঞ্চলিক গেটওয়ে সম্প্রসারণ
ইশতেহারে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের সুষম উন্নয়নের লক্ষে যশোর, রাজশাহী, সৈয়দপুর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে উন্নত করা হবে। এর ফলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর যাত্রীরাও বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন, যা দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
রাজনৈতিক ও এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই ইশতেহারে এভিয়েশন খাতকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে ২০৩৪ সালের মধ্যে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করা এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোকে আকৃষ্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিসের মান বৃদ্ধি করা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।










