প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা এই বিশৃঙ্খলায় জড়িত থাকবে, তারা যে-ই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান ধর্মঘট ও অচলাবস্থা নিরসনে কঠোরতম অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কতিপয় লোকের কাছে ১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না।
উপদেষ্টার হুঁশিয়ারি: ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’
বিদেশি কোম্পানির কাছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে ধরা হয়েছে, বাকিদেরও ধরা হবে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা এই বিশৃঙ্খলায় জড়িত থাকবে, তারা যে-ই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সামনে পবিত্র রমজান মাস। বর্তমানে বহির্নোঙরে ছোলা, ডাল ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী জাহাজ আটকে আছে। এই অবস্থায় বন্দর অচল করাকে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি হিসেবে দেখছে সরকার।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান দাবি করেছেন, বন্দরের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে তিনি এই ধর্মঘটের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেন।
বন্দর ভবনের সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একটি পক্ষ এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিঘ্নিত করার জন্য বন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। কোনো অবস্থায়ই নির্বাচন বা দেশের সরবরাহ চেইন ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।”
ধর্মঘটের কারণ: বিদেশি অপারেটরকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৪ দফা দাবিতে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ এই ধর্মঘট ডাকে।
সরকারের পদক্ষেপ: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। যারা কাজে বাধা দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।
দ্রব্যমূল্যের শঙ্কা: রমজানকে সামনে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা রুখতে সরকার বন্দর সচল রাখাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
সরকারের এই অনমনীয় অবস্থানের ফলে বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পণ্য খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।










