Home First Lead যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি: এক শতাংশ কমলো পাল্টা শুল্ক

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি: এক শতাংশ কমলো পাল্টা শুল্ক

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। দীর্ঘ ৯ মাসের দরকষাকষি শেষে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি, যার ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন পাল্টা শুল্ক (Reciprocal Tariff) ২০ শতাংশ থেকে কমে ১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ওয়াশিংটনে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির মূল অর্জনসমূহ
এই চুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু (সিনথেটিক ফাইবার) ব্যবহার করে বাংলাদেশে উৎপাদিত পোশাকের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা। এর ফলে স্থানীয় পোশাক শিল্পে বড় ধরনের গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চুক্তির উল্লেখযোগ্য শর্তগুলো হলো:

পাল্টা শুল্ক হ্রাস: বর্তমানে এই হার ১৯ শতাংশ, যা আগে ২০ শতাংশ (এবং তারও আগে ৩৭ শতাংশ) ছিল।

বোয়িং বিমান ক্রয়: বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমাতে বাংলাদেশ মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ৩০-৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫টি বিমান কিনতে সম্মত হয়েছে।

আমদানি প্রতিশ্রুতি: যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, গম, সয়াবিন ও এলএনজি আমদানির নিশ্চয়তা।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড: ই-কমার্সে শুল্ক না রাখা, মেধাস্বত্ব মানদণ্ড অনুসরণ এবং ডব্লিউটিও সংস্কারে মার্কিন প্রস্তাব সমর্থন।

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান
সংশোধিত এই শুল্ক হারের ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও সুসংহত হলো। প্রতিযোগী দেশগুলোর বর্তমান শুল্ক হারের তুলনা নিচে দেওয়া হলো:
দেশ
পাল্টা শুল্ক হার
ভারত
১৮%
বাংলাদেশ
১৯%
পাকিস্তান/কম্বোডিয়া
১৯%
ভিয়েতনাম
২০%
যদিও ভারতের শুল্ক হার বাংলাদেশের চেয়ে ১ শতাংশ কম, তবে স্বল্প শ্রমব্যয় ও উৎপাদন খরচের কারণে বাংলাদেশ মার্কিন বাজারে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
নীতিনির্ধারকদের প্রতিক্রিয়া
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, “শুল্ক হার কমানো এবং নির্দিষ্ট পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা আমাদের তৈরি পোশাক খাতের জন্য যুগান্তকারী মোড় হিসেবে কাজ করবে।”
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ অভিহিত করে বলেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার আগের চেয়ে বহুগুণ বাড়বে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই প্রক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
আগামীর পথ: চুক্তিটি সোমবারই উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে। দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করার পর এটি কার্যকর হবে। আজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকার এই চুক্তির বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৮.৬৯ বিলিয়ন ডলার, যা এই চুক্তির ফলে আগামীতে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।