Home আন্তর্জাতিক আরাকানে জান্তার আকাশযুদ্ধ: ক্ষমতার দাপট নাকি পতনের সংকেত?

আরাকানে জান্তার আকাশযুদ্ধ: ক্ষমতার দাপট নাকি পতনের সংকেত?

ছবি এ আই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মায়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে জান্তা সরকার এবং আরাকান আর্মি (AA)-এর মধ্যকার যুদ্ধ এখন এক চূড়ান্ত ও ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়েছে। স্থলযুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর জান্তা বাহিনী এখন এমন সব সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালাচ্ছে, যা তারা ইতিমধ্যে আরাকান আর্মির কাছে হারিয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবল বিমান হামলা কোনো কৌশলগত বিজয় নিশ্চিত করতে পারছে না, বরং এটি একটি পরাজিত বাহিনীর প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ।
নিজের তৈরি অবকাঠামো নিজেই ধ্বংস করছে জান্তা
গত ৭ ফেব্রুয়ারি বুথিডং টাউনশিপে জান্তা বাহিনীর বিমান থেকে বোমা ফেলা হয় ‘স্ট্র্যাটেজিক অপারেশন কমান্ড ১৫’ এর সদর দপ্তরে। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি গত ২০২৪ সালের মে মাসেই আরাকান আর্মি দখল করে নিয়েছিল। একইভাবে মিনব্য এবং পোন্নাগিউন টাউনশিপের পরিত্যক্ত ব্যাটালিয়ন ঘাঁটিগুলোতেও দফায় দফায় হামলা চালানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জান্তা সরকার “নিজে না খেতে পারলে তাতে বালু ছিটিয়ে দেওয়া” (Scattering sand on meat) নীতি গ্রহণ করেছে। তারা চায় না যে তাদের ফেলে আসা বাঙ্কার বা প্রশাসনিক ভবনগুলো আরাকান আর্মি তাদের কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করুক।
বেসামরিক ও যুদ্ধবন্দীদের ওপর আঘাত
জান্তার এই ‘এয়ার ওয়ার’ বা আকাশপথের যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ এবং যুদ্ধবন্দীরা। গত ২০ জানুয়ারি কিয়াউক্তাও-এর কাছে একটি বন্দিশিবিরে বিমান হামলায় অন্তত ২১ জন যুদ্ধবন্দী ও তাদের পরিবারের সদস্য নিহত হন। এছাড়াও সিত্তয়ে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের বসতি লক্ষ্য করে অবিরাম শেলিং ও বোমা হামলা চলছে, যার ফলে মানবিক সংকট তীব্রতর হচ্ছে।
শাসন করার ক্ষমতা হারিয়ে কেবল ধ্বংসের উন্মাদনা
রাখাইনের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টিরই নিয়ন্ত্রণ এখন আরাকান আর্মির হাতে। জান্তা বাহিনী এখন কেবল সিত্তয়ে এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট পকেটে সীমাবদ্ধ। স্থলপথে সৈন্য পাঠাতে বা রসদ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন আকাশপথের ওপর নির্ভরশীল। তবে আকাশ থেকে বোমা ফেলে একটি অঞ্চল ধ্বংস করা গেলেও সেখানে শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
আরাকান আর্মি এই পরিস্থিতিতে নিজেদের ‘ডি ফ্যাক্টো’ বা প্রকৃত শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। তারা প্রশাসনিক কাজ এবং জননিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে, যা জান্তা সরকারের বৈধতাকে আরও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে।
 রাখাইন যুদ্ধের এই চিত্র প্রমাণ করে যে, জান্তা সরকার এখন আর শাসন করার সক্ষমতা রাখে না; তাদের হাতে অবশিষ্ট আছে কেবল ধ্বংস করার ক্ষমতা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনে করছে, জান্তার এই কৌশলগতভাবে অন্তঃসারশূন্য হামলা কেবল রক্তপাতই বাড়াবে, যুদ্ধের ফলাফল পরিবর্তন করতে পারবে না।