Home আইন-আদালত খুন্তির ছ্যাঁকা আর ক্ষুধার আর্তনাদ: রিমান্ডে বিমানের সাবেক এমডি ও স্ত্রী

খুন্তির ছ্যাঁকা আর ক্ষুধার আর্তনাদ: রিমান্ডে বিমানের সাবেক এমডি ও স্ত্রী

রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে বিমানের সাবেক এমডিকে। ছবি সংগৃহীত
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজধানীর উত্তরায় ১২ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথী খাতুনসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এই আদেশ দেন।
আদালত মামলার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিম্নোক্ত মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন:
  • বিথী খাতুন (প্রধান আসামি): ৭ দিন।
  • সাফিকুর রহমান (সাবেক এমডি): ৫ দিন।
  • সুফিয়া বেগম (গৃহকর্মী): ৬ দিন।
  • রূপালী খাতুন (গৃহকর্মী): ৫ দিন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শুনানির লোমহর্ষক বর্ণনা
শুনানি চলাকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার শিশুটির ওপর হওয়া নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, শিশুটিকে দিনের পর দিন টয়লেটে আটকে রাখা হতো। ক্ষুধার তীব্রতায় সে টয়লেটের পানি ও টিস্যু খেয়ে বেঁচে ছিল। তাকে নির্যাতনের জন্য সবসময় গরম খুন্তি প্রস্তুত রাখা হতো। ১২ বছরের কম বয়সী শিশুকে কাজে রাখা এবং এই স্তরের বর্বরতাকে তিনি “জাতীয় লজ্জা” হিসেবে অভিহিত করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আসামির বক্তব্য
শুনানিকালে বিচারক প্রধান আসামি বিথী খাতুনের কাছে নির্যাতনের কারণ জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি কেবল “দু-একটা চড়” মেরেছেন এবং দাগগুলো আগের। তবে আদালত ভুক্তভোগী শিশুর জখমের ছবি দেখিয়ে বলেন:

“এত দাগ কই থেকে আসলো? আগে একটি আঘাত থাকলেও বাকি সব জখম যে আপনাদের বাসায় হয়েছে, তা ছবিতে স্পষ্ট।”

পরবর্তীতে বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানের উচ্চপদস্থ অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিচারক প্রশ্ন করেন, তার মতো একজন মানুষের বাসায় এমন জঘন্য কাজ কেন হবে।
মানবিক দিক বিবেচনা
আসামিপক্ষ তাদের অপর গৃহকর্মী রূপালীর কোলের শিশুর কথা উল্লেখ করে জামিন চাইলেও আদালত তা নাকচ করে দেন। তবে রিমান্ড চলাকালীন রূপালীর ছোট শিশুদের যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা গোলাম মোস্তফা জানান, গত বছরের জুন মাসে ভালো থাকা-খাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে মেয়েটিকে ওই বাসায় কাজে দিয়েছিলেন। গত ৩১ জানুয়ারি তাকে ফেরত দেওয়ার সময় শরীরে গুরুতর জখম ও খুন্তির ছ্যাঁকা শনাক্ত করা হয়। বর্তমানে শিশুটি গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।