আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে গত কয়েকদিনের ঊর্ধ্বগতির পর আজ স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় পর প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫,০০০ ডলারের ঘরে নেমে এসেছে। মূলত শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং আমেরিকার আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক রিপোর্টের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় বাজারে এই বিক্রয় চাপ তৈরি হয়েছে।
কেন কমছে স্বর্ণের দাম?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই দরপতনের পেছনে প্রধান তিনটি কারণ কাজ করছে:
১. মার্কিন ডলারের শক্তি বৃদ্ধি: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অর্থনৈতিক নীতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) সম্ভাব্য কঠোর অবস্থানের কারণে মার্কিন ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে। সাধারণত ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণের দাম কমে যায়।
২. অর্থনৈতিক রিপোর্টের অপেক্ষা: আজ বুধবার আমেরিকার নন-ফার্ম পেরোল (Nonfarm Payrolls) রিপোর্ট এবং আগামী শুক্রবার মুদ্রাস্ফীতির (CPI) তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই রিপোর্টগুলোর ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে যে ভবিষ্যতে সুদের হার কমবে না বাড়বে। অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিতে স্বর্ণ বিক্রি করে দিচ্ছেন।
৩. মার্জিন রিকোয়ারমেন্ট বৃদ্ধি: সিএমই (CME) গ্রুপ স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর লেনদেনে জামানত বা মার্জিন মান বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের বেশি অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে, যা বাজারে তারল্য কমিয়ে স্বর্ণের দামে চাপ সৃষ্টি করেছে।
বর্তমান বাজার দর (এক নজরে)
মানদণ্ড
বর্তমান মূল্য (আনুমানিক)
পরিবর্তন
প্রতি আউন্স (Spot Gold)
$৫,০২৭.৪৩
-০.৬৩% (প্রায় $৩২ হ্রাস)
মার্চ ফিউচার (Comex)
$৫,০৬১.০০
নিম্নমুখী প্রবণতা
রুপা (Silver)
$৮০.৯০
-২.৯৫% পতন
বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বর্ণ বর্তমানে একটি ‘সংশোধন’ (Correction) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত মাসে স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫,৬০০ ডলারে উঠে গিয়েছিল, যা ছিল আকাশচুম্বী। বর্তমান পতনকে অনেকে স্বাভাবিক মনে করছেন।
সাপোর্ট লেভেল: যদি স্বর্ণের দাম ৪,৯৭০ ডলারের নিচে নেমে যায়, তবে এটি আরও কমে ৪,৮৯৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
রেজিস্ট্যান্স: বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াতে হলে আউন্স প্রতি দামকে অবশ্যই ৫,১২৫ ডলারের বাধা পার করতে হবে।
বিনিয়োগকারীদের করণীয়: আগামী ৪৮ ঘণ্টা স্বর্ণের বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন জব রিপোর্ট প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হলে স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বা চীন কর্তৃক মার্কিন বন্ড কেনা কমিয়ে দেওয়ার খবর বাজারে নতুন করে গতি ফেরাতে পারে।