লিড-টাইম কমছে ১৫ দিন: বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী হবে বাংলাদেশ
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: আন্তর্জাতিক শিপিং জায়ান্ট মারস্ক (Maersk) এবং হ্যাপাগ-লয়েড (Hapag-Lloyd) পুনরায় লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল রুট ব্যবহারের ঘোষণা দেওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজ।
দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় পর এই রুটটি সচল হওয়ায় বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সময়ের সাশ্রয়: দ্রুত পৌঁছাবে তৈরি পোশাক
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজার থেকে। লোহিত সাগর সংকটের কারণে এতদিন জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে যেতে হতো, যাতে অতিরিক্ত ১৫ থেকে ১৯ দিন সময় লাগত। এখন সুয়েজ খাল পুনরায় ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য পণ্য ইউরোপের বন্দরে ১০ থেকে ১৫ দিন আগে পৌঁছাবে। এতে ‘লিড-টাইম’ কমে আসায় বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের বিশ্বস্ততা আরও বাড়বে।
উৎপাদন খরচ হ্রাস ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা
রুটটি ছোট হয়ে আসায় জাহাজগুলোর জ্বালানি ও অপারেশনাল খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। এর ফলে কন্টেইনার ভাড়ার ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ‘সারচার্জ’ প্রত্যাহার হতে শুরু করেছে। আমদানিকারকদের মতে:
কাঁচামাল আমদানিতে সুবিধা: তুলা, রাসায়নিক ও শিল্পের যন্ত্রপাতির পরিবহন খরচ কমবে, যা স্থানীয় কারখানার উৎপাদন খরচ কমিয়ে দেবে।
প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা: উৎপাদন খরচ কমলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশি পণ্য আরও সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
ডলার সাশ্রয় ও রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব
শিপিং চার্জ বা জাহাজ ভাড়া ডলারে পরিশোধ করতে হয়। লোহিত সাগরের রুট সচল হওয়ায় ভাড়া কমলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। এটি বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডলারের রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সরবরাহ চেইনের স্থিতিশীলতা
জাহাজগুলো নিয়মিত এবং দ্রুত যাতায়াত করায় চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে কন্টেইনারের সংকট দূর হবে। এছাড়া, রমজান বা আসন্ন মৌসুমী চাহিদার পণ্যগুলো সময়মতো বাজারে পৌঁছানো সহজ হবে, যা স্থানীয় বাজারে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে।
ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
বিজিএমইএ (BGMEA) এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক সংগঠনের মতে, এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’। সময়মতো পণ্য পৌঁছানোর নিশ্চয়তা থাকায় ক্রেতারা এখন বড় অংকের অর্ডার দিতে আরও উৎসাহিত হবেন।
মারস্ক ও হ্যাপাগ-লয়েডের এই সাহসী পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার পথ সুগম হলো। এটি শুধুমাত্র সময় ও অর্থই সাশ্রয় করবে না, বরং বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে।