Home আন্তর্জাতিক গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত: মেয়র মামদানির মন্তব্যে নিউ ইয়র্কে তোলপাড়

গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত: মেয়র মামদানির মন্তব্যে নিউ ইয়র্কে তোলপাড়

আহত বাংলাদেশি ‍যুবক

মোস্তফা তারেক, নিউ ইয়র্ক: নিউ ইয়র্কে মানসিকভাবে অসুস্থ বাংলাদেশি যুবক জাবেজ চক্রবর্তীকে পুলিশ কর্তৃক গুলি করার ঘটনায় সিটি মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত রবিবার মেয়র ইঙ্গিত দেন যে, ছুরি হাতে পুলিশের দিকে ধেয়ে যাওয়ার অভিযুক্ত জাবেজের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা না করে বরং তাঁর উন্নত মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা প্রয়োজন। মেয়রের এই অবস্থানকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমর্থক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিতর্কের সূত্রপাত

ঘটনাটি ঘটে কুইন্সে, যেখানে ২২ বছর বয়সী জাবেজ চক্রবর্তী মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় একটি বড় রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে এনওয়াইপিডি (NYPD) কর্মকর্তাদের দিকে ধেয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের অনুরোধে তাঁকে জোরপূর্বক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সেখানে পুলিশ ও ইএমএস উপস্থিত হয়েছিল। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে জাবেজ আহত হন।

মেয়রের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া

মেয়র জোহরান মামদানি জাবেজের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, “স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে পুলিশই সবসময় প্রথম সমাধান হওয়া উচিত নয়। আমাদের বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন।” তিনি জাবেজের ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে না দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচারের আহ্বান জানান।

তীব্র সমালোচনা

মেয়রের এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ‘দ্য বিগ উইকেন্ড শো’–এর সহ–উপস্থাপক জোয়ি জোনস। তিনি মন্তব্য করেন, পুলিশ যখন তাদের প্রশিক্ষণ অনুযায়ী কাজ করছে, তখন মেয়র যদি তার বিরোধিতা করেন, তবে তিনি এই পদের জন্য অযোগ্য। এর জন্য তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

ফক্স নিউজের বিশ্লেষক গাই বেনসন ভিডিও ফুটেজের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, পুলিশ শক্তি প্রয়োগের আগে সব ধরনের বিকল্প চেষ্টা করেছিল। তাঁর মতে, মেয়র প্রকৃত সত্য আড়াল করে অভিযুক্তকেই ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, জাবেজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলাকে অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে রাখা মামদানির এই অবস্থান নিউ ইয়র্ক পুলিশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।