মাহবুব হাসান, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের মানুষের কাছে ‘আকিয়াব’ বা ‘রেঙ্গুন’ কেবল মানচিত্রের দুটি শহর নয়, বরং এক দীর্ঘ নস্টালজিয়া আর ঐতিহ্যের নাম। বর্তমান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিটওয়ে, যার পুরনো নাম আকিয়াব। এক সময় রেঙ্গুন (বর্তমানে ইয়াঙ্গুন) এবং আকিয়াবের সাথে চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক ও সামাজিক সম্পর্ক এতোটাই গভীর ছিল যে, একে বলা হতো চট্টগ্রামের ‘অঘোষিত দ্বিতীয় আবাস’।
আকিয়াব-রেঙ্গুন যাত্রা: একটি সোনালী অধ্যায়
ব্রিটিশ শাসনামল থেকে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নিয়মিত জাহাজ ছেড়ে যেত আকিয়াব ও রেঙ্গুনের উদ্দেশ্যে। চট্টগ্রামের বিশেষ করে আনোয়ারা, বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও পটিয়ার মানুষের কাছে বার্মা (মিয়ানমার) যাওয়া ছিল অনেকটা ডাল-ভাতের মতো।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ধান কাটার মৌসুমে হাজার হাজার শ্রমিক ও ব্যবসায়ী সেখানে যেতেন। বার্মা ছিল তখন প্রাচ্যের ‘স্বর্ণভূমি’।
সামাজিক বন্ধন: বার্মায় গিয়ে সেখানকার সুন্দরী নারীদের বিয়ে করে ঘর বাঁধার এক প্রবণতা ছিল তখনকার যুবকদের মধ্যে। অনেকেই স্থায়ীভাবে থেকে যেতেন, আবার অনেকেই পরিবার নিয়ে দেশে ফিরতেন। এই সংমিশ্রণের ফলে চট্টগ্রামে এক অনন্য ‘বার্মিজ কালচার’ গড়ে ওঠে।
‘রেঙ্গুন ন যাইও বন্ধু’: বিরহ ও আশঙ্কার সুর
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের এক অমূল্য সম্পদ হলো রেঙ্গুন যাত্রা নিয়ে গাওয়া গানগুলো। যখন কোনো যুবক রেঙ্গুনের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতেন, ঘরের স্ত্রী বা প্রেমিকার মনে যে হাহাকার তৈরি হতো, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে অমর এই গানে:
“রেঙ্গুন ন যাইও বন্ধু, ও বন্ধু রেঙ্গুন ন যাইও…”










