বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন থেকে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা আলহাজ এরশাদ উল্লাহ। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১,৫২,৯৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো: আবু নাছের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৩,৫৬৪ ভোট। অর্থাৎ, ৯৯,৪০৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে এরশাদ উল্লাহ বিজয়ী হয়েছেন।
ফলাফল বিশ্লেষণ
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৮ আসনের ১৮০টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফল পাওয়া গেছে। এ আসনে মোট ভোটার ৫,৫৪৭২৯ জন, যার মধ্যে ভোট প্রদান করেছেন ২,৬০,৯৫৮ জন। প্রদত্ত ভোটের হার ৪৭.০৪%। এরশাদ উল্লাহর এই বিশাল জয় প্রমাণ করে যে, বোয়ালখালী-চান্দগাঁও এলাকার জনগণের ওপর তার ব্যক্তিগত এবং দলীয় প্রভাব অত্যন্ত সুসংহত।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জীবনসংগ্রাম
আলহাজ এরশাদ উল্লাহ কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি চট্টগ্রামের একজন সফল ব্যবসায়ী নেতা হিসেবেও পরিচিত। তবে তার রাজনৈতিক পথচলা ছিল কণ্টকাকীর্ণ:
তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব: তিনি দীর্ঘ সময় ধরে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তাকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
হামলা ও ত্যাগ: নির্বাচনী প্রচারণাকালে গত ৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি গুলিতে গুরুতর আহত হন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকা তার প্রতি জনসমর্থন আরও বাড়িয়ে দেয়।
ব্যবসায়ী সমাজের প্রত্যাশা ও সংকট নিরসন
একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে এরশাদ উল্লাহর বিজয় চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক অঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে বন্দরকেন্দ্রিক জটিলতা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
বিশেষ করে বোয়ালখালী-কালুরঘাট শিল্পাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজীকরণে তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকায়, তারা এখন প্রত্যাশা করছেন যে এরশাদ উল্লাহ সংসদে ব্যবসায়ীদের নানা সমস্যা ও সংকট দূরীকরণে যথাযথ ভূমিকা রাখবেন এবং চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে মর্যাদা রক্ষায় জোরালো কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবেন।
এরশাদ উল্লাহর এই জয়কে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বিএনপির আধিপত্য পুনরুদ্ধারের একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজয়ী হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই জয়কে চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের জয় হিসেবে উৎসর্গ করেছেন এবং এলাকার উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
আমাদের কনটেনটটি ভালো লাগলে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।